দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় এক অনন্য মানবিক ও শিক্ষার্থী বান্ধব উদ্যোগ পরিদর্শন করেছেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: রেজাউল ইসলাম।
আজ (২৬ জুলাই, ২০২৬) তিনি বিরল উপজেলার ৮ নম্বর ধর্মপুর ইউনিয়নের চৌপুকুরিয়া গ্রামে অবস্থিত কমল দাদার পাঠশালা পরিদর্শনে যান। বিনামূল্যে শিক্ষার আলো ২০২৩ সাল থেকে সম্পূর্ণ নিজেদের উদ্যোগে ও নিজ বাড়িতে এলাকার অসচ্ছল পরিবারের সন্তানদের বিনামূল্যে পাঠদান করে আসছেন কমল চন্দ্র সরকার ও তার স্ত্রী লতা রাণী। সমাজে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে এবং দরিদ্র শিশুদের ঝরে পড়া রোধ করতে এই দম্পতি এই মহতী প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
উপজেলা প্রশাসনের উপহার ও সংবর্ধনা পরিদর্শনকালে ইউএনও মো: রেজাউল ইসলাম পাঠশালার কোমলমতি শিশুদের সাথে সময় কাটান এবং তাদের খোঁজ-খবর নেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও উৎসাহিত করতে খাতা, রঙ-বে-রঙের কলম, পেন্সিল, বই, খেলার বল, ইরেজার, শার্পনার এবং চকলেট উপহার দেওয়া হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), মো: রেজাউল ইসলাম বলেন, বর্তমান যুগে কমল চন্দ্র সরকার ও তার স্ত্রীর এই নিঃস্বার্থ ত্যাগ সত্যি বিরল। কোনো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য ছাড়া, সম্পূর্ণ নিজেদের খরচে অসচ্ছল শিশুদের যেভাবে তারা শিক্ষা দিচ্ছেন, তা সমাজের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। কমল চন্দ্র সরকারের মতো গুণী মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরে উপজেলা প্রশাসন, বিরল অত্যন্ত আনন্দিত এবং গর্বিত। এই পাঠশালার যে কোনো প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
পাঠশালার প্রতিষ্ঠাতা, কমল চন্দ্র সরকার বলেন, আমরা শুধু চেয়েছি আমাদের এলাকার দরিদ্র পরিবারের শিশুরা যেন শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হয়। অভাবের কারণে যেন কোনো শিশুর পড়াশোনা বন্ধ না হয়ে যায়, সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আজ ইউএনও স্যার নিজে আমাদের এই ছোট পাঠশালায় এসে শিশুদের উপহার দিয়েছেন, এতে আমাদের কাজের অনুপ্রেরণা অনেক বেড়ে গেল। আমরা উপজেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞ।
কমল চন্দ্র সরকারের এই পাঠশালাটি আজ কেবল একটি শিক্ষার কেন্দ্র নয়, বরং গ্রামীণ জনপদে শিক্ষার আলো ছড়ানোর এক আলোক বর্তিকায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং একে টিকিয়ে রাখতে সমাজের বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।