দিনাজপুর সদর উপজেলার ১নং চেহেলগাজী ইউনিয়নের মোস্ত্মফাবাদ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও দীর্ঘ ৪৬ বছর পেরিয়ে গেলেও জাতীয়করণের আওতায় আসেনি। ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। দ্রম্নত বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
জানা যায়, ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি সারা দেশে ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি করা হয়। সে সময় মোস্ত্মফাবাদ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা, পরিদর্শনসহ (ভিজিট) সব ধরনের কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও অজ্ঞাত কারণে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের তালিকায় স্থান পায়নি। ২০২৬ সালেও বিদ্যালয়টি সরকারি না হওয়ায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষকসহ মোট চারজন শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে কোনো সরকারি বেতন-ভাতা ছাড়াই পাঠদান করে আসছেন। সংসার চালানোর জন্য তাদের অনেককে অন্য পেশায় যুক্ত হতে হচ্ছে। অর্থসংকটের কারণে বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ বিলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিদ্যালয়টিতে অধ্যয়নরত অধিকাংশ শিক্ষার্থী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও জেলে পরিবারের সন্ত্মান। বিদ্যালয়ের চারপাশে প্রায় দুই কিলোমিটারের মধ্যে অন্য কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় এলাকার সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার প্রধান ভরসা এই প্রতিষ্ঠান।
চেহেলগাজী ইউনিয়নের বিএনপির চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী পান্না বলেন, বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হলে দরিদ্র ও প্রান্ত্মিক জনগোষ্ঠীর শিশুদের মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে বিনা বেতনে দায়িত্ব পালন করা শিক্ষকরাও ন্যায্য স্বীকৃতি ও কর্মপরিবেশ পাবেন।
এ বিষয়ে সংশিস্নষ্ট কর্তৃপক্ষের জরম্নরি হস্ত্মক্ষেপ কামনা করে এলাকাবাসী মোস্ত্মফাবাদ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি অনতিবিলম্বে জাতীয়করণের জোর দাবি জানিয়েছেন।