লিজ নেওয়া একটি পুকুর থেকে প্রায় ছয় লাখ টাকার মাছ লুটের অভিযোগ করেছেন এক মৎস্যচাষি। এ ঘটনায় দিনাজপুরের ফুলবাড়ী প্রশাসনের সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ ও জড়িতদের শাস্ত্মির দাবি করেছেন মৎস্যচাষি।
শনিবার দুপুরে ফুলবাড়ীর উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন রাবেয়া কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মৎস্যচাষি পূর্ণ চন্দ্র দাস।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দীর্ঘ ২৪বছর ধরে ফুলবাড়ীর কাজিহাল ইউনিয়নের ১ নম্বর খতিয়ানের ১৬০৮ নম্বর দাগের সাড়ে চার একর আয়তনের অর্পিত সম্পত্তির পুকুর সরকারি নিয়মে ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করে আসছেন। তিনি জানান, গত ২৩ জুলাই উপজেলার ৬৪টি অর্পিত পুকুরের ইজারা নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। ওই নিলামে তিনি অংশ নিলেও নুরম্নল ইসলাম নামে একজন সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হন। তবে সরকারের কোষাগারে ইজারার অর্থ জমা দেওয়ার আগেই গত ২৭জুলাই রাতে নুরম্নল ইসলাম ও তাঁর লোকজন পুকুর থেকে প্রায় ছয়লাখ টাকার মাছ তুলে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি। রতিনি আরও বলেন, পরদিন সহকারী কমিশনারের (ভূমি) সঙ্গে দেখা করলে তিনি দেওয়ানি আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন।
সংবাদ সম্মেলনে পূর্ণ চন্দ্র দাস ক্ষতিপূরণ, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত্ম এবং সংশিস্নষ্ট ভূমি অফিসের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও জড়িতদের বিরম্নদ্ধে দৃষ্টান্ত্মমূলক শাস্ত্মির দাবি জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত নুরম্নল ইসলাম বলেন, পূর্ণ চন্দ্র দাসের ইজারার মেয়াদ চার মাস আগেই শেষ হয়েছে। তিনি পুকুরের পানি সেচে মাছ ধরছিলেন। আমি শুধু এতে বাধা দিয়েছি। আমি মাছ লুট করেছি এমন অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। পুলিশ যদি ঘটনাস্থলে গিয়ে থাকে, তাহলে জাল ও পিকআপ জব্দ বা কাউকে আটক করেনি কেন ?
ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমেদ হাছান বলেন, ভুক্তভোগী আমার কাছে সরাসরি কোনো অভিযোগ করেননি। তবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিষয়টি জানিয়েছিলেন। আমি তাকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।
ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ শাহ বলেন, মাছ লুট বা পুলিশ মাছ নিয়ে এসেছে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমার জানা নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত্ম করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।