দিনাজপুরের বিরলে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্যের দফায় দফায় বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন। কাঁচা মরিচ, ভোজ্য তেল এবং এলপিজি গ্যাসের মতো অতি প্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের দাম সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। বাজারে সঠিক তদারকি না থাকায় খুচরা ব্যবসায়ীরা ইচ্ছে মতো দাম বাড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ সাধারণ ভোক্তাদের।
কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে, কাঁচা মরিচের দাম আকাশ চুম্বী হয়েছে। সরবরাহ সংকটের অজুহাতে স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। রান্নার অন্যতম প্রধান উপাদান সয়াবিন ও সরিষার তেলের দাম দফায় দফায় বাড়ানো হয়েছে। বোতল জাত ও খোলা তেলের দাম প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকায় নিম্ন ও মধ্য বিত্ত পরিবার গুলো বাজেট মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে। বাসা বাড়িতে রান্নার জন্য ব্যবহৃত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিরলের খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে। ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের সিন্ডিকেটের কারণে প্রতি সিলিন্ডারে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
বিরল পৌর এলাকার কাঁচা বাজারে আসা কয়েক জন সাধারণ ক্রেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, আয়ের তুলনায় ব্যয় দ্বি-গুণ হওয়ায় তারা দিশেহারা। দিন মজুর ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষেরা এখন চাল-ডাল কেনার পর কাঁচা মরিচ বা তেল কেনার টাকা মেলাতে পারছেন না।
অনেক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাজারে দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই, শুধু নজর দারির অভাবে আমাদের পকেট কাটা যাচ্ছে।
পাইকারি বাজার থেকে পণ্য খুচরা বাজারে আসা পর্যন্ত কয়েক হাত বদল হয়, যা দাম বাড়ার প্রধান কারণ।
বিরল উপজেলার স্থানীয় বাজার গুলোতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত বা বাজার মনিটরিং কমিটির কার্যকর কোনো অভিযান দৃশ্যমান নয়।
এলপিজি গ্যাস ও তেলের ক্ষেত্রে অনেক সময় ডিলাররা পণ্য মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। সমাধানের দাবি বিরলের সচেতন মহল ও সাধারণ ক্রেতারা এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। তাদের দাবি অবিলম্বে বিরল বাজারের প্রতিটি দোকানে মূল্য তালিকা টাঙানো বাধ্যতা মূলক করা হোক এবং নিয়মিত বাজার মনিটরিং করে অতিরিক্ত মুনাফা লোভী ব্যবসায়ীদের জরিমানার আওতায় আনা হোক। অন্যথায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।