পঞ্চগড়ে অবসরপ্রাপ্ত এক সেনাসদস্যের ভোগদখলে থাকা ১৩ শতক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক স্থানীয় নেতার বিরম্নদ্ধে। একই সঙ্গে তাঁকে প্রাণনাশ ও মারধরের হুমকি দেয়ারও অভিযোগ করেছেন ওই ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় আদালতে মামলা করার পাশাপাশি থানায় অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। ভুক্তভোগী ওই সেনা সদস্যের নাম মশিউর রহমান। তার বাড়ি পঞ্চগড় পৌরসভা সংলগ্ন কাগজিয়াপাড়া গ্রামে। অভিযুক্ত মোজাম্মেল হকের বাড়িও একই গ্রামে। স্থানীয়ভাবে তিনি এনসিপির নেতা হিসেবে পরিচিত।
মশিউর রহমানের অভিযোগ, ২০১০ সালে তিনি ১৩ শতক জমি কিনে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও গাছ লাগিয়ে ভোগদখল করে আসছেন। গত বছরের অক্টোবর মাসে ওই জমিতে পরিবারের লোকজন চাষাবাদ করতে গেলে মোজাম্মেল হক ও তাঁর লোকজন বাধা দেন। এ সময় তাঁকে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এরপর গত বছরের নভেম্বর মাসে জমিতে বাড়ি নির্মাণের জন্য প্রস্তুতি নিতে গেলে আবারও বাধা দেয়া হয়। এ সময় নির্মাণ শ্রমিকদেরও গালিগালাজ করা হয়। তাঁকে জমি থেকে উচ্ছেদ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। এ ঘটনায় তিনি আদালতে ১৪৪ ও ১৪৫ ধারায় মামলা করেন। মামলায় মোজাম্মেল হকসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মশিউর রহমান বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে এই জমি ভোগদখল করে আসছি। এখন মোজাম্মেল হক ও তাঁর লোকজন অন্যায়ভাবে জমি দখলের চেষ্টা করছেন এবং আমাকে হুমকি দিচ্ছেন। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রশাসন ও দেশবাসীর কাছে এর বিচার চাই।
অভিযোগের বিষয়ে মোজাম্মেল হক বলেন, আমি মশিউর রহমানের জমি দখলের কোনো চেষ্টা করিনি। তাঁর দাবি, জমি নিয়ে মশিউর রহমান তাঁর বিরম্নদ্ধে আদালতে মিথ্যা মামলা করেছেন।
রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে মোজাম্মেল হক বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নন। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সারজিস আলমের শাপলা কলি প্রতীকের পক্ষে কাজ করেছেন। স্থানীয়ভাবে তিনি পৌর এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচিত।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন