গত বছরের চেয়ে এবার পাটের উৎপাদন এবং বাজার মুল্য ভালো হওয়ায় কৃষকরা খুশি। বাজারে ভালো দাম থাকায় অনেক কৃষক আগামীতে পাট চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
এখন মাঠে মাঠে বাতাসে দুলছে সবুজ পাটগাছ, ক্ষেত হতে পাট ঘরে তুলতে নারী পুরম্নষ সকলেই অবিরাম মাঠে ব্যস্ত্ম সময় পার করছে আর সেই সাথে হাটে হাটে ছড়িয়ে পড়েছে ধোয়া-শুকনো সোনালী আঁশের মিষ্টি গন্ধ। এবার অনুকূল আবহাওয়া আর সঠিক পরিচর্যায় দিনাজপুরে চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে পাটের ব্যাপক চাহিদা এবং কাঙ্খিত দাম পাওয়ায় সোনালী আঁশের বুকভরা স্বপ্নে বিভোর চাষিরা।
বর্তমানে দেশে পলিথিনের ব্যবহার কমিয়ে পাট ও পাটজাত দ্রব্যের ব্যবহার বৃদ্ধিতে সরকারিভাবে উদ্যোগ নেয়া হলে আবারো সুদিন ফিরে আসবে পাট চাষিদের।
বীরগঞ্জ উপজেলার কয়েক এলাকায় দেখা যায়, কৃষকরা ক্ষেত হতে পাট কাটা, পানিতে ভেজানো, আঁশ ছাড়ানো ও রোদে শুকানোর কাজে পার করছেন ব্যস্ত্ম সময়। স্থানীয় বাজারে শুভ্র ও ঝকঝকে আঁশ হাটে তোলার সাথে সাথেই চড়া দামে তা কিনে নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। সার, বীজ ও শ্রমিকের খরচ মিটিয়ে এবার বড়অঙ্কের লাভের হিসাব কষছেন স্থানীয় পাটচাষিরা। বীরগঞ্জের মোহম্মদপুর ইউপির পাটচাষী বেলাল হেসেন বলেন, এবছর দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি প্রতি বিঘা জমিতে পাট চাষে খরচ হয়েছে ১৮-২০ হাজার টাকা। বর্তমানে ১ বিঘা জমিতে ৩৫-৪০ হাজার টাকার পাট বিক্রি করা যাবে দাম ভালো প্রতি মন পাট ৪ হাজার টাকার উপরে বিক্রি করছি। একই এলাকার কৃষক মুজিবুর রহমান বলেন, এ বছর শুরম্ন থেকেই আবহাওয়া ভালো ছিল বিঘাপ্রতি ফলন চমৎকার হয়েছে। বাজারে ভালো দাম যাচ্ছে, তাতে সব খরচ তুলে একটা বড় অঙ্কের টাকা লাভ থাকবে। তবে সার্বিক পরিস্থিতি ইতিবাচক হলেও, কিছু এলাকার কৃষকরা পর্যাপ্ত পানির অভাবে পাট জাগ দেওয়া (পচানো) নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্ত্মায় রয়েছেন। কবে বৃষ্টি হলে সেই সমস্য দুর হতে পারে।
পাট ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিশ্ববাজারে পরিবেশবান্ধব পাটের কদর বৃদ্ধি এবং সুতার চাহিদা বাড়ায় বাজার এবার শুরম্ন থেকেই চাঙ্গা। ব্যবসায়ীদের আশা, সোনালী আঁশের এই সুদিন বজায় থাকলে দিনাজপুরের বিভিন্ন উপজেলায় গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে।
এব্যাপারে বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ শরিফুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে বীরগঞ্জ উপজেলায় ৪৮১হেক্টর জমিতে উচ্চফলনশীল জাতের পাট চাষ করা হয়েছে। কৃষি অফিসের সঠিক পরামর্শ, কারিগরি সহায়তা এবং রোগবালাই মুক্ত আবহাওয়া নিশ্চিত হওয়ায় এবার পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে সেই সাথে ভালো বাজার মূল্য পেয়ে কৃষকরা আনন্দিত।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শষ্য) মোঃ আনিছুজ্জামান জানান, চলতি মৌসুমে জেলার ১৩ উপজেলায় ৪হাজার ১৭২হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা প্রতি হেক্টরে ধরা হয়েছে ১১.০৯ টন। গতবারের চেয়ে ফলন ভাল হয়েছে এবং বাজারে ভালো দাম থাকায় কৃষকদের চাষের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। এরই মধ্যে ৬০ভাগ জমির পাট কাটা হয়েছে। অনেক স্থানে কৃষক জমি থেকে পাট কাটছেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন