দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে সীমানা প্রাচীর ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের মাঠের পাশ দিয়ে স্থানীয়দের অবাধ চলাচল, ব্যস্ত্ম সড়কের সংলগ্ন অবস্থানের কারণে প্রতিনিয়ত নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীরা। দ্রুত সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়রা।
সোমবার ১০ আগস্ট উপজেলার ভোগনগর ইউনিয়নের বটতলী বাজার সংলগ্ন এলাকায় ৬৩ নম্বর চাউলিয়া মিশন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়,বিদ্যালয়টির মাঠ ও চারপাশ খোলা অবস্থায় রয়েছে। এবং বিদ্যালয়টির চারপাশে কোনো সীমানা প্রাচীর নেই। ফলে বিদ্যালয়ের মাঠ ব্যবহার ও শ্রেণিকক্ষের পাশ দিয়ে প্রতিদিন স্থানীয়দের চলাচল অব্যাহত রয়েছে। একই প্রাঙ্গণের পাশে একটি পাকা সড়ক দিয়ে সিংড়া শালবন এবং পিকনিক স্পট।
প্রতিদিন বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে মিনিবাস, পিকআপ সহ নানা যানবাহন নিয়ে ভ্রমণে আসে দর্শনার্থীরা।
পাশাপাশি ছোট ছোট যানবাহন প্রতিনিয়ত চলাচল করে থাকে এই সড়কে। এছাড়া বিদ্যালয়টি প্রধান সড়কের পাশে হওয়ায় টিফিনের সময় ছোট শিক্ষার্থীদের সড়কে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে,১৯৩৬ সালে প্রায় ২ একর ৩৫ শতাংশ জমির ওপর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও চাজন সহকারী শিক্ষিকা ও একজন দপ্তরী (অফিস সহায়ক) কর্মরত রয়েছেন। বিদ্যালয়ে মোট ১২৮ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।
স্থানীয়দের দাবি, সীমানা প্রাচীর (বাউন্ডারি ওয়াল) না থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী। ব্যস্ত্ম সড়কের পাশে অবস্থিত বিদ্যালয়টির পাশে
সিংড়া ফরেস্ট থাকায় প্রতিদিন মিনিবাস,ভারী ট্রাক, অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের চলাচল অব্যাহত থাকলেও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনো নির্মাণ করা হয়নি কোনো বাউন্ডারি ওয়াল। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতে ৬৩ নম্বর চাউলিয়া মিশন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্রুত বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করা জরম্নরি। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা পরিবেশ আরও উন্নত হবে।
স্থানীয় অভিভাবকদের ভাষ্য, বিদ্যালয়ে সীমানা প্রাচীর না থাকায় সন্ত্মানদের নিরাপত্তা নিয়ে তারা সবসময় উদ্বিগ্ন থাকেন। টিফিনের সময় কিংবা ছুটির পর শিশুদের সড়কে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই দ্রুত সীমানা প্রাচীর নির্মাণে সংশিস্নষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
টিফিনের সময় কিংবা খেলাধুলার ফাঁকে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয় চত্বরের বাইরে কিংবা সড়কের কাছাকাছি চলে যায়। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মোছা: সামছুন নাহার বেগম বলেন, বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ওয়াল না থাকায় স্কুলের সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল হয়ে যাচ্ছে। বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। তবে লিখিতভাবে জানানো হয়নি। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত সীমানা প্রাচীর নির্মাণ প্রয়োজন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, সরকার শিক্ষা খাতে ব্যাপক উন্নয়ন করছে। বিভিন্ন বিদ্যালয়ে নতুন ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের এই বিদ্যালয়ে এখনো বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ হয়নি। ব্যস্ত্ম সড়কের পাশে বিদ্যালয় হওয়ায় সন্ত্মানদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা সবসময় উদ্বিগ্ন থাকি। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, বিদ্যালয়ে খেলাধুলা ও চলাফেরার সময় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ হলে তাদের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসবে বলে তারা মনে করে।
এ বিষয়ে বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমা খাতুন বলেন, "বিষয়টি ভারপ্রাপ্ত
প্রধান শিক্ষিকার মাধ্যমে মৌখিকভাবে জানতে পেরেছি।
স্থানীয় সংসদ সদস্যর সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত বিদ্যালয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে সংশিস্নষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন