দিনাজপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) ক্রয়কৃত যন্ত্রাংশ যাচাই-বাছাই করতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দিনাজপুর কার্যালয়ের একটি বিশেষজ্ঞ দল পরিদর্শন করেছে। এসময় যন্ত্রাংশ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
বিগত ১৭ বছরের একই প্রতিষ্ঠান কর্মরত থেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যÿ শেখ রাকিবুল হাসান, সাবেক অধ্যÿ মো. মাসুদ রানা (বর্তমানে নীলফামারী টিটিসিতে অধ্যÿ হিসেবে কর্মরত), কম্পিউটার ডিপার্টমেন্টের সাবেক চীফ ইন্সট্রাক্টর (বর্তমানে দিনাজপুরের খানাসামা টিটিসিতে অধ্যÿ হিসেবে কর্মরত), নিমাই কুমার দত্তসহ অন্যান্য সহযোগীদের অনিয়ম, দুর্বৃত্তায়ন ও দুর্নীতির বিষয়ে তৃতীয় ধাপে তদন্ত্মে আসে দুদক ও এক্সপার্ট দল।
সোমবার (১০ আগষ্ট) দিনাজপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রোগ্রামেবল লজিক কন্ট্রোলার (পিএলসি) মেশিন, ডিজিটাল স্মার্ট বোর্ড ও পোশাক স্বয়ংক্রিয় ফেব্রিক্স পরিদর্শন মেশিন সরবরাহকারী (এফআইএম) মেশিনের যাচাই-বাছাই করতে আসেন তারা।
যাচাই-বাছাই শেষে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) রংপুর আঞ্চলিক পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম জানান, পিএলসি ও ডিজিটাল স্মার্ট বোর্ড এই দুটি যন্ত্রাংশ সঠিক ভাবে যাচাই-বাছাই করতে হলে ল্যাবে নিয়ে যেতে হবে অথবা প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ একটি বিশেষজ্ঞ টিম নিয়ে আসতে হবে।
অন্যদিকে দিনাজপুর টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের চিফ ইন্সট্রাক্টর শাহরিয়ার রায়হান জানান, আমরা পোশাক স্বয়ংক্রিয় ফেব্রিক্স পরিদর্শন মেশিন সরবরাহকারী (এফআইএম) মেশিন যাচাই-বাছাই করেছি। আমরা যত দ্রম্নত সম্ভব রিপোর্ট পেশ করব।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দিনাজপুর কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আতাউর রহমান সরকার জানান, দিনাজপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) যন্ত্রাংশ ক্রয়সংক্রান্ত্ম অভিযোগের তদন্ত্মের অংশ হিসেবে সোমবার তিনটি যন্ত্রাংশ যাচাই-বাছাই করতে বিশেষজ্ঞসহ দুদকের একটি টিম যন্ত্রাংশ যাচাই-বাছাই করার জন্য টিটিসিতে যায়। বিষয়টি তদন্ত্মাধীন রয়েছে।
এবিষয়ে দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক ও তদন্ত্মকারী কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত্মাধীন অবস্থায় রয়েছে। এবিষয়ে কোন মন্ত্মব্য করতে রাজি হননি তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রম্নয়ারি দিনাজপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের যন্ত্রাংশ ক্রয়ের সংক্রান্ত্ম অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযান পরিচালনা করে জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক। উলেস্নখ্য ইলেকট্রিকেল ট্রেডের জন্য আন্ত্মর্জাতিকমানের পিএলসি মেশিন ক্রয় না করে দেশীয় তৈরি মেশিন ক্রয় করেছেন মাত্র ২ লাখ টাকায়, আর টেন্ডারে ক্রয় দেখানো হয়েছে ১০ লাখ টাকা। ডিজিটাল ইনট্রাক্টটিভ বোর্ড ৩ লাখ ২০ হাজার টাকার বোর্ড ৮ লাখ টাকা দেখিয়ে মোট ৪ টি বোর্ড ৩২ লাখ টাকা লোপাট করা হয়েছে। অপর দিকে গার্মেন্টস ট্রেডের জন্য ফেব্রিক্স মেশিন ক্রয়ে অনিয়ম, টেন্ডারে উলেস্নখিত মডেল এবং ব্রান্ড না মেনে দেশীয় মেশিন মাত্র ৮০ হাজার টাকায় ক্রয় করে ৪ লাখ টাকা ক্রয় দেখানো হয়েছে। এ ছাড়াও বিগত ১৭ বছরে দিনাজপুর টিটিসিতে ক্রয়সহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ১ লÿ ২৭ হাজার ৭শ টাকা লোপাট করা হয়েছে।
প্রথম ধাপে তদন্ত্মপূর্বক দুদকের নিজস্ব ভেরিফাইড পেজে উলেস্নখ করেছেন প্রাথমিকভাবে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে, সেই ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় ধাপে মেশিনগুলোকে জব্দ দেখানো হয়েছে এবং তৃতীয় ধাপে ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে মেশিন এক্সপার্টগণ পর্যালোচনা করেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন