দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় এক ব্যতিক্রমী মানবিক ও শিক্ষাবান্ধব উদ্যোগের মাধ্যমে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের মুখে ফুটেছে খুশির হাসি। উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের চৌপুকুরিয়া গ্রামে অবস্থিত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পরিচালিত ‘কমল দাদার পাঠশালা’র শিশুদের মাঝে স্কুল ব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে।বিরল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: রেজাউল ইসলামের সার্বিক সহযোগীতায় এই স্কুল ব্যাগ গুলো বিতরণ করা হয়।
নতুন ব্যাগ পেয়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে পাঠশালার কোমলমতি শিশুরা। একই সাথে অভিভাবকরাও এই উদ্যোগে গভীর সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
এর আগে, ইউএনও মো: রেজাউল ইসলাম আকস্মিক ভাবে ঐ পাঠশালাটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের দিন তিনি শিশুদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করতে খাতা, বিভিন্ন রঙের কলম, পেন্সিল, পাঠ্যবই, খেলার বল, ইরেজার, শাপনার এবং চকলেটসহ নানা ধরনের উপহার সামগ্রী নিজ হাতে তুলে দেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার শিশুদের স্কুল ব্যাগ দেওয়া হলো।
এ বিষয়ে বিরল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো: রাজুল ইসলাম জানান, সমাজসেবা অধিদপ্তর ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সব সময়ই এ ধরনের মানবিক কাজের পাশে থাকে। এই পাঠশালার উন্নয়ন এবং শিশুদের কল্যাণে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ’ থেকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে, যা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: রেজাউল ইসলাম এই উদ্যোগ সম্পর্কে বলেন, "কমল চন্দ্র সরকার ও তার স্ত্রী লতা রাণী সমাজের জন্য যা করছেন তা সত্যিই অনুকরণীয়। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা ছাড়াই অসচ্ছল শিশুদের যেভাবে তারা আলো ছড়াচ্ছেন, তা প্রশংসার দাবিদার।
আমাদের পক্ষ থেকে এই শিশুদের জন্য স্কুল ব্যাগ ও শিক্ষা উপকরণ দিতে পেরে ভালো লাগছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই পাঠশালার পাশে আমরা সবসময় থাকব এবং তাদের সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, প্রশাসনের এমন তদারকি ও সহযোগিতা কমল দাদার পাঠশালার মতো মানবিক উদ্যোগ গুলোকে আরও বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন