দেশকে স্থিতিশীল রাখতে কোনো বিভ্রান্তকারীর কথায় কান না দিয়ে অতীতের মতো তাদের সমুচিত জবাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে কিশোরগঞ্জ পুরাতন স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের ব্যক্তিদের মধ্যে সম্মানী ভাতা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশে অনেক বিভ্রান্তকারী ও রটনাকারী আছে। তাদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। দেখতে হবে অতীতে তারা কী করেছে। সেই অতীত বিবেচনা করেই তাদের চোখে চোখে রাখতে হবে এবং ভবিষ্যতে তারা কী করছে, সেদিকে নজর রাখতে হবে।”
বিগত আন্দোলন ও রাজনৈতিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা দেখেছি একাত্তরে, ছিয়াশি সালে এবং ছিয়ানব্বই সালে তাদের ভূমিকা কী ছিল। বিগত ১৭ বছরের জনগণের যে আন্দোলন, সেই আন্দোলনে তাদের আমরা রাজপথে দেখিনি। আজকে যারা বড় বড় কথা বলছে এবং বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে, বিগত ১৭ বছর তাদের আমরা রাজপথে দেখিনি।”
সংস্কারের দাবির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকে এরা সংস্কারের কথা বলছে। বিএনপি ২০২২ সালে সংস্কারের কথা বলেছে। কোথায় ছিলেন তখন আপনারা সংস্কার নিয়ে? এই দেশে সবচেয়ে প্রথম বিএনপি তথা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই সংস্কারের প্রস্তাবনা মানুষের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।”
সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “আমাদের ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের বাস্তবায়ন করতে হবে। ইমাম ও মুয়াজ্জেম সাহেবদের ভাতা নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হবে এবং দেশের কৃষি ব্যবস্থা ও কলকারখানা গড়ে তুলে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলেই আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারব।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা বাংলাদেশকে অন্য কোনো দেশের মতো বানাতে চাই না। আমরা বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে তৈরি করতে চাই, যেই রাষ্ট্রে প্রতিটি মানুষ তার মর্যাদা অনুযায়ী রাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রাপ্য সহযোগিতা ও অধিকার পাবে।”
নারীদের ক্ষমতায়ন ও শিক্ষার প্রসারে সরকারের নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা নির্বাচনের আগেই বলেছিলাম, পরিবারের নারী প্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড দিতে চাই। কারণ, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক হচ্ছে নারী; তাদের পেছনে ফেলে দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারীদের শিক্ষাব্যবস্থা ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত অবৈতনিক করেছিলেন। বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, খালেদা জিয়ার সেই পলিসিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে আমরা অনার্স পর্যন্ত নারীদের বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ করে দেব। পাশাপাশি ভালো রেজাল্টকারীদের সরকারিভাবে বৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে।”
সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ), প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দিন এবং কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলুর রহমান প্রমুখ।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন