দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা জুড়ে সোনালী আউশ ধানের দোলাচল নজর কাড়ছে সবার। এবার বর্ষানির্ভর এই ধান চাষে সফল হয়েছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর এ উপজেলায় প্রায় ৫০০ হেক্টর জমিতে আউশ ধান চাষ হয়েছে। বিঘাপ্রতি ২২ থেকে ২৩ মন ফলন পাচ্ছেন কৃষকরা। যা বোরো মৌসুমের আধুনিক জাতের ফলনের সমান। বিশেষ করে, ব্রি ধান-৯৮ জাতটি এবার বেশি চাষ হয়েছে।
উপজেলার কৃষক জাহিদুল এবং আব্দুল জব্বার জানান, তারা দুজন মিলে তিন বিঘা করে মোট ছয় বিঘা জমিতে আউশ ধানের চাষ করেছেন। বিঘা প্রতি ২৩ মন ফলন পেয়েছেন তারা এবং ফলন ও বাজার মূল্য ভালো থাকায় তারা খুবই খুশি। তারা আশা প্রকাশ করছেন, সামনের বছর থেকে তারা এই ধানের আবাদ আরও বৃদ্ধি করবেন, যা দেখে আশেপাশের অন্য কৃষকরাও এই জাতের প্রতি ঝুঁকছেন।
কৃষকরা জানান, এ ধান কাটার পর তারা ব্রি ধান-৩৪ এবং ব্রি ধান-৯৩ সহ কিছু আগাম জাত চাষ করবেন এবং এর পরে তারা আবার রবি ফসলও চাষ করবেন। এতে করে বছরে কৃষকরা প্রায় তিন ফসল ও শাক-সবজিও করতে পারবে।
এ বিষয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা জানান, ঘোড়াঘাট পৌরসভার কৃষকরা এই ধান চাষের কলাকৌশল শিখে গেছেন এবং পাখির হাত থেকে রক্ষার জন্য নেট ব্যবহারের মতো কৌশলগুলো আয়ত্ত করেছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রফিকুজ্জামান জানান, পুরো উপজেলা জুড়ে উঠান বৈঠক ও মত বিনিময়ের মাধ্যমে কৃষকদের মোটিভেট করা হচ্ছে। বৃষ্টিকে কাজে লাগিয়ে আউশ ধান চাষে উৎপাদন খরচ কমছে এবং পানি সম্পদের সঠিক ব্যবহার হচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন