শিকলে বাঁধা অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে দুই প্রতিবন্ধী ভাই। পরিবারের সামর্থ্য না থাকায় অনেকটা বাধ্য হয়েই তাদের শিকলে বেঁধে রাখা হয়। প্রতিদিনের এই দৃশ্য স্থানীয় মানুষের হৃদয়ে নাড়া দেয়। তাদের চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় সহায়তা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ করে দিতে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ভোগনগর ইউনিয়নের কালাপুকুর পুকুরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন ও মোছা. আয়শা সিদ্দিকার পরিবারে এমন করম্নণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
শিকলে বাঁধা অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে দুই প্রতিবন্ধী ভাই তারা হলেন, ১৭বছর বয়সী আসিক ইসলাম ও ১৪বছর বয়সী আব্দুল আলিম।
পরিবার জানায়, চার সন্ত্মানের মধ্যে ১৭বছর বয়সী আসিক ইসলাম ও ১৪বছর বয়সী আব্দুল আলিম প্রতিবন্ধী। দীর্ঘদিন ধরে তাদের শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যা করানোও পরিবারের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিবারের সামর্থ্য না থাকায় অনেকটা বাধ্য হয়েই তাদের শিকলে বেঁধে রাখা হয়। বাকী দুই ছেলে সুস্থ্য। এদের একজন ছোট। আরেকজন মাদ্রাসায় পড়ে।
ভোগনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রাজিউর রহমান রাজু বলেন, আমাদের এলাকার দুই ভাই প্রতিবন্ধী শিশু আসিক ও আব্দুল আলিম। তাদের পরিবারের অবস্থা অত্যন্ত্ম অসহায়। আমরা ভোগনগর ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সবসময় তাদের পাশে আছি। দুইভাইকে সরকারি ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, দুই ভাইয়ের শিকলে বাঁধা জীবন অত্যন্ত্ম কষ্টদায়ক। পরিবারটির আর্থিক অবস্থাও খুবই খারাপ। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দেশের ধনী ও বিত্তবান এবং সমাজের মানবিক মানুষদের এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলো এগিয়ে এলে দুই ভাইয়ের চিকিৎসা, পরিচর্যা ও জীবনযাত্রার মান কিছুটা উন্নত হতে পারে। একই সঙ্গে তাদের শিকলমুক্ত করে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সংশিস্নষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
মা মোছা. আয়শা সিদ্দিকা জানান, আমার স্বামী দেলোয়ার হোসেন দিনমজুর এবং তিনিও প্রতিবন্ধি। নাক দিয়ে কথা বলেন। দিনমজুর করে কষ্টে সংসার চলে। আমিও অন্যের বাসাবাড়ীতে কাজ করি। আমার দুই সন্ত্মান জন্মের পর থেকেই প্রতিবন্ধী। তাদের চিকিৎসা করার খরচ বহন করা কষ্টকর। শিকল খুলে দিলে তারা বাইরে চলে যায়, সামলাতে পারি না। তাই বাধ্য হয়েই শিকলে বেধে রাখতে হয়। সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা পেলে এই দুই সন্ত্মানের চিকিৎসা করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর চেষ্ঠা করবো।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন