দিনাজপুরের বীরগঞ্জে মুরগি পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন খামারি মো. খলিলুর রহমান। উপজেলার নিজপাড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ৪৬ বছর বয়সী এই খামারি দীর্ঘদিন ধরে সোনালি ক্লাসিক জাতের মুরগি পালন করে আসছেন। বর্তমানে তার খামারে প্রায় ৩০ হাজার মুরগির বাচ্চা রয়েছে।
খামারি খলিলুর রহমান জানান, ৩০ হাজার মুরগি লালন-পালন করতে খাবার, ওষুধ, বিদ্যুৎ, শ্রমিকসহ বিভিন্ন খাতে তার প্রায় ৫৫ লাখ টাকা খরচ হয়। উৎপাদন ও বাজারদরের ওপর নির্ভর করে লাভের পরিমাণ কম-বেশি হয়। তবে লাভ তুলনামূলক কম হলেও মুরগি পালন করে তিনি সন্তুষ্ট। এ ব্যবসার মাধ্যমে নিজের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অন্যদেরও কাজের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানান তিনি।
খলিলুর রহমান বলেন, মুরগি পালনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে ফিডের দাম বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যাওয়া এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি। এসব কারণে খামার পরিচালনার খরচ দিন দিন বাড়ছে। ফলে মুরগি পালন এখন অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসায় পরিণত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মুরগির বাজারদর স্থিতিশীল না থাকায় অনেক সময় খামারিদের লোকসানের আশঙ্কায় থাকতে হয়। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত লাভ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
সরকারের কাছে খামারিদের জন্য বিশেষ ঋণের ব্যবস্থা, সহজ শর্তে অর্থায়ন এবং মুরগির ফিডসহ প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন সফল এই খামারি। তার মতে, সরকারি সহযোগিতা ও বাজার ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হলে বেকার যুবকদের মুরগি পালনে আগ্রহ বাড়বে এবং দেশের প্রাণিসম্পদ খাত আরও সমৃদ্ধ হবে।
স্থানীয়ভাবে মুরগির চাহিদা ও বাজার ভালো থাকলে ভবিষ্যতে খামার আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে খলিলুর রহমানের।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন