বাঙালি সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজা। আগামী ১০ অক্টোবর শনিবার শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীর আবাহন ঘটবে এবং ১৬ অক্টোবর মহা ষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হবে এই উৎসব। এরপর আগামী ২০ অক্টোবর মহা দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে পাঁচ দিন ব্যাপী এই উৎসবের।
পূজাকে কেন্দ্র করে দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলায় ৩ মাস আগে থেকেই শুরু হয়েছে প্রতিমা তৈরির কাজ। যত দিন ঘনিয়ে আসছে, ততই মানুষের মাঝে বাড়ছে পূজার আমেজ। ইতোমধ্যে উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় মোট ৯৮টি পূজা মণ্ডপে জোরে-শোরে চলছে গেট, প্যান্ডেল নির্মাণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ। এবারে মণ্ডপ গুলোতে দেখা যাচ্ছে ভিন্নতা। বেশ কিছু এলাকায় ডিজিটাল থিম, দৃষ্টিনন্দন ডেকোরেশন ও আধুনিক লাইটিংয়ের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। এদিকে মণ্ডপে মণ্ডপে মৃৎশিল্পীরা (মালাকার) প্রতিমা তৈরিতে দিন-রাত পার করছেন।
মালাকাররা জানান, প্রতি বছরই তারা নতুন নতুন ডিজাইনের প্রতিমা তৈরি করেন। বর্তমানে মাটির প্রাথমিক কাজ প্রায় শেষ, আর কিছুদিন পর থেকেই শুরু হবে প্রতিমার রঙ ও সাজসজ্জার মূল কাজ।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুবল চন্দ্র রায় জানান, দুর্গাপূজা আমাদের সবচেয়ে বড় উৎসব। এবারও যাতে অত্যন্ত উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপিত হয়, সে লক্ষ্যে আমরা প্রতিটি মণ্ডপ কমিটির সাথে মতবিনিময় সভা করতেছি। যেহেতু বিভিন্ন মন্দিরে এখন প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে, তাই মণ্ডপ কর্তৃপক্ষকে নিজ উদ্যোগে মন্দির ও প্রতিমা পাহারার ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পূজার সার্বিক নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি সম্পর্কে বিরল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ রেজাউল ইসলাম বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা যেন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়, সে জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী মণ্ডপগুলোতে সার্বিক তদারকি করা হবে। আমরা আশা করি, সকলের সহযোগিতায় বিরল উপজেলায় একটি চমৎকার ও সুশৃঙ্খল পূজা উদযাপিত হবে।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিরল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আল এমরান জানান, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে বিরল থানা পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে। প্রতিমা তৈরির সময় থেকে শুরু করে বিসর্জন পর্যন্ত প্রতিটি মণ্ডপে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে পোশাকি পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হবে। আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মণ্ডপ কমিটিকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করব।
বিরল উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা প্রত্যাশা করেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও সব ধর্মের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে এই শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন হবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন