দিনাজপুরের বীরগঞ্জে অবৈধভাবে সার মজুদ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের চলমান পৃথক অভিযানে ২ হাজার ৩৪০ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। এ সময় দুইজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার ভোগনগর ইউনিয়নের কবিরাজহাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমা খাতুনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে বিসিআইসি লাইসেন্সধারী ডিলার নওশাদ ট্রেডার্স ও জনতা হাসকিং মিল থেকে ১ হাজার ৪৯৩ বস্তা টিএসপি, ১৮১ বস্তা ডিএপি ও ২১৬ বস্তা এমওপি সারসহ মোট ১ হাজার ৮৯০ বস্তা সার জব্দ করা হয়।
অভিযানকালে জনতা অটো রাইস মিলের ম্যানেজার কাজী ফয়সালকে ৩ মাসের কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এর আগে মঙ্গলবার একই এলাকায় বিএডিসি নিবন্ধিত কৃষি বীজঘরের গোডাউনে অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দীপংকর বর্মন। অভিযানে ৪৫০ বস্তা এমওপি সার জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় গোডাউনের ম্যানেজার মো. জনি ইসলামকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে উপজেলার নিজপাড়া ইউনিয়নের হাবলু হাট এলাকার কৃষক কৃষ্ণকান্ত রায় বলেন, সারের জন্য কৃষকদের মাঝে হাহাকার শুরু হয়েছে। কারণ এই মুহুর্তে কৃষকের প্রয়োজনের সময় সার পাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সমাজের কিছু অসাধু মানুষ চড়া দামে বিক্রয়ের আশায় সার মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে। প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে আমরা ন্যায্যমূল্যে এবং সময়মতো সার পাব এবং কৃষকদের ভোগান্তি কমবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল ইসলাম বলেন, সার সংকট নিরসনে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। কোথাও সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা সরকারি মূল্যের বাইরে বিক্রির চেষ্টা করা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমা খাতুন বলেন, কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার কেউ অবৈধভাবে মজুত বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষকের স্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল ইসলাম ও বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাইফুল ইসলাম সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। জব্দকৃত সারগুলো সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছে দিনব্যাপী বিক্রি করে বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন