কুড়িগ্রামের রাজারহাটে দুধখাওয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিন যুগপূর্তি উপলক্ষে পুনর্মিলনী ও সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সাহিদুল ইসলামের অবসরোত্তর রাজকীয় বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় রাজারহাট সদর ইউনিয়নের দুধখাওয়া গ্রামে অবস্থিত বিদ্যালয়টির মাঠে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ মিলনমেলায় পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানে সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সাহিদুল ইসলামকে সম্মাননা স্মারক, একটি পালসার মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন উপহারসামগ্রী প্রদান করেন বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও আয়োজক কমিটির সদস্য মোস্তাফিজার রহমান মন্ডল সাথী বলেন, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সাহিদুল ইসলাম মোট ৩৬ বছর ৯ মাস ৮ দিন এ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা ও দক্ষ নেতৃত্বে বিদ্যালয়টি রাজারহাট উপজেলায় একটি মডেল বিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। ১৯৯৫ সাল থেকে এ বিদ্যালয়ের অনেক কৃতী শিক্ষার্থী সাধারণ ও ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “প্রধান শিক্ষকের বিদায়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। একজন দক্ষ, সৎ ও আদর্শ শিক্ষক হিসেবে তিনি রাজারহাট উপজেলায় শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে ভূষিত হয়েছেন। আমরা অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মনে স্যারকে বিদায় জানাচ্ছি। তিনি যেন অবসরোত্তর জীবনে সুস্থ, সুন্দর ও দীর্ঘ জীবন লাভ করেন—এটাই আমাদের প্রার্থনা।”
সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সাহিদুল ইসলাম বলেন, “বিদ্যালয়টি ১৯৮৮ সালে আরডিআরএসের ‘শিক্ষা নিলয়’ হিসেবে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে বিদ্যালয়টি রেজিস্ট্রেশনের জন্য নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। আমি ১৯৯০ সালের ২৬ জানুয়ারি নিয়োগ পাই এবং ২৭ জানুয়ারি বিদ্যালয়ে যোগদান করি। ১৯৯৫ সালে বিদ্যালয়টি রেজিস্ট্রেশন লাভ করে। এরপর থেকে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে আসছি। ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি বিদ্যালয়টি সরকারি হয়।”
তিনি বলেন, “১৯৯৫ সাল থেকে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বৃত্তি পেয়ে আসছে। আমার কাছে সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো, বিদ্যালয়ের জমিদাতা রহমতুল্লাহ এখন আমাদের মধ্যে বেঁচে নেই। আমি সবার কাছে অনুরোধ করব, সবাই যেন তাঁর জন্য দোয়া করেন। আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতবাসী করেন।”
বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী সেকেন্দার আলী লিমন বলেন, “আমাদের স্যার একজন আদর্শবান শিক্ষক। তিনি শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তানের মতো স্নেহ করতেন। এই বিদ্যালয়েই আমার শিক্ষাজীবনের শুরু। স্যারের নিরলস প্রচেষ্টা, পরিশ্রম, ত্যাগ এবং এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বিদ্যালয়টি আজকের অবস্থানে এসেছে।”
তিন যুগপূর্তি ও বিদায়ী সংবর্ধনা উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় শিক্ষক আহাম্মদ আলী মন্ডলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হৃদয় কৃষ্ণ বর্মন। সাবেক শিক্ষার্থী আবুল কালাম আজাদ ও ফারুক হোসেনের যৌথ সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান ও বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী চিকিৎসক মো. আব্দুস ছালাম।
এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন