কালক্রমে হারিয়ে যেতে বসেছে ভ্রাম্যমাণ নরসুন্দরদের চুল ও দাড়ি কাটার চিত্র। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অন্য অনেক পেশার মতোই নরসুন্দরের এই পেশা প্রায় বিলুপ্তির পথে। তারপরও কখনও কখনও গ্রামাঞ্চল ও হাটবাজারে চোখে পড়ে ভ্রাম্যমাণ নরসুন্দরের কর্মযজ্ঞ।
ভ্রাম্যমাণ এসব নরসুন্দর চুল কাটার বা ছাঁটার যন্ত্রপাতি নিয়ে বসেন গ্রামীণ ও হাটবাজারগুলোতে। হাটবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে আসা ক্রেতারাই নরসুন্দরদের ‘কাস্টমার’।
সম্প্রতি সরেজমিন দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী নবাবগঞ্জের হাট ঘুরে দেখা যায়, হাটে চুল ও দাড়ি কাটার কাজ করছে প্রায় ৫ জন নরসুন্দর। কাস্টমারদের পিঁড়ি বা টুলে বসিয়ে চুল ও দাড়ি কাটছেন তারা। কাস্টমারদের সমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো।
নরসুন্দরদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক যুগ ধরে এভাবেই দাড়ি ও চুল কাটছেন তারা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাটে আসা মানুষজন তাদের কাস্টমার। তারা বিভিন্ন হাটবাজারে খোলা আকাশের নিচে বসে চুল ও দাড়ি কেটে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। তারা চুল কাটতে ২০-৩০ টাকা এবং শেভ বা দাড়ি ঠিক করতে ১৫০-২০ টাকা নেন।
উপজেলার বিনোদনগর ইউনিয়ন থেকে হাটে আসা একজন বলেন, ‘আমি দিনমজুর মানুষ। সেলুনে চুল ও দাড়ি কাটাতে গেলে ৫০ থেকে ১০০ টাকা লাগে। আর এদের কাছে মাত্র ৪০ টাকায় চুল ও দাড়ি কাটানো যায়। সেলুন আর এদের কাজের মান প্রায় সমান।’
গোলাপগঞ্জ ইউনিয়ন এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, আমাদের এলাকার বেশিরভাগ মানুষই ভ্রাম্যমাণ এই নরসুন্দরদের দিয়ে চুল-দাড়ি কাটান। তাদের কাছে অনেক কম টাকায় চুল-দাড়ি কাটানো যায়।
এক নাপিত বলেন, ‘এ পেশা আমার দাদার ছিল। দাদার মৃত্যুর পরে বাবাও ছিলেন এ পেশায়। বাবার কাছ থেকেই আমার এ পেশার হাতেখড়ি। বাবার মৃত্যুর পরে আমিই হাল ধরেছি। টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছি। কিন্তু সন্তানরা নাপিতের পেশায় আসতে চায় না। তাই বাপ দাদাদের ঐতিহ্য বিলুপ্তির পথে।
তিনি আরও বলেন, নবাবগঞ্জের হাট সপ্তাহে শুক্রবার ও মঙ্গলবার দুদিন বসে। হাটে প্রায় হাজার মানুষের সমাগম হয়। প্রতিটি হাটে চুল ও দাড়ি কেটে প্রায় ৮০০-১২০০ টাকা আয় হয়। এ আয় দিয়েই সংসার চলে। বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে ঘুরে মানুষের চুল দাঁড়ি কেটে দিয়ে থাকে বলে জানিয়েছেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন