বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) দিনাজপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত প্রযুক্তি গ্রাম ও কৃষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬)
কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা-৩ শাখার উপসচিব মোঃ মনিরুজ্জামান, এলএসটিডি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন ও পরিকল্পনা-৩ শাখার গবেষণা অনুসন্ধানী মোহাম্মদ শফিকুল আলম ব্রি দিনাজপুর আঞ্চলিক কার্যালয় ও প্রযুক্তি গ্রাম পরিদর্শন করেন।
দিনাজপুর সদর উপজেলার হুগলীপাড়া প্রযুক্তি গ্রামে চলমান গবেষণা ও প্রদর্শনী কার্যক্রম এবং কৃষকের মাঠে আধুনিক ধান উৎপাদন প্রযুক্তির প্রয়োগ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁরা দিনাজপুর অঞ্চলের কৃষির সম্ভাবনা, ধান উৎপাদনের সমস্যা ও সমাধান, স্থানীয় কৃষি-জলবায়ু ও মাটির বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ধানের জাত নির্বাচন এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি নিয়ে কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
পরে এলএসটিডি প্রকল্পের আয়োজনে আধুনিক ধান উৎপাদন প্রযুক্তি বিষয়ক কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা-৩ শাখার উপসচিব মোঃ মনিরুজ্জামান।
এলএসটিডি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে ও ব্রি দিনাজপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সৈয়দ জাহিদ হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ তুষার, ব্রি দিনাজপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান ও ঊর্দ্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোছাঃ সেলিমা জাহান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপসচিব মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিউটের এসটিডি প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে ৬টি আঞ্চলিক ধান গবেষণা কেন্দ্র ও স্যাটেলাইট কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে দিনাজপুর একটি। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে চাষিদের গতানুগতিক পদ্ধতি থেকে বের হয়ে আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত করাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।
কৃষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান নিজে কাজ লাগাতে হবে ও অন্য কৃষকদের মাঝে ছড়িতে দিতে হবে। পাশাপাশি জমিতে অতিরিক্ত সার প্রয়োগ না করে পরিমিত সার প্রয়োগের আহবান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে এলএসটিডি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, দিনাজপুর কার্যালয় স্থাপনের উদ্দেশ্যে হল এই এলাকা বিখ্যাত সুগদ্ধি জাতীয় প্রিমিয়াম কোয়ালিটির ধান উৎপাদন করা। তাছাড়া বাসমতি, জেসমিন, খাগড়াছড়ি এলাকাঢ স্টিকি বা আঠালো ধান উৎপাদন করা হয়। কৃষক পর্যায়ে আধুনিক জাতগুলো পরিচিত করার জন্যি আমাদের এই উদ্যোগে। এরই ধারাবাহিকতায় দিনাজপুরেও এই উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
অনুষ্ঠানে কৃষকরা ধান চাষের বিভিন্ন সমস্যা, উৎপাদন ব্যয়, সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। একই সঙ্গে দিনাজপুরে স্থায়ী আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের চলমান কার্যক্রম, ভূমি অধিগ্রহণ কাজ এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ দ্রুত গ্রহণের অনুরোধ জানান স্থানীয়রা।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন