তেলবাহী ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কয়েক ঘণ্টা পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। রোববার ইরান জানায়, হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশের চেষ্টা করা একটি মার্কিন নৌ ড্রোনে তাদের বাহিনী হামলা চালিয়েছে। এর আগে মার্কিন হামলার জবাবে ইরান কয়েকটি জাহাজে হামলা চালায়।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাতের নতুন দফা শুরু হয়। ছয় মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে দুই পক্ষের মধ্যে বর্তমানে অচলাবস্থা বিরাজ করছে।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে ইরান এখনো শক্ত নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোর ওপর পাল্টা অবরোধ জোরদার করে চলেছে।
ইরানের অর্থনীতির ওপরও চাপ বাড়াতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে আর্থিকভাবে যুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে, যাতে তেহরানকে নতি স্বীকারে বাধ্য করা যায়।
ইরানের সামরিক বাহিনীর আদর্শিক শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) রোববার জানায়, হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশের চেষ্টা করা ‘একটি মার্কিন সামরিক মানববিহীন নৌযানে’ তারা হামলা চালিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে আইআরজিসি জানায়, তাদের নৌবাহিনী ‘হরমুজ প্রণালীর অনুমোদনহীন পথে চলাচলকারী তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার এবং অন্যান্য এলাকায় আমেরিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।’
অনুমোদনহীন পথে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম না করতে অন্য জাহাজগুলোকেও সতর্ক করেছে আইআরজিসি।
এর আগে শনিবার অঞ্চলটিতে মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনাকারী সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, তারা ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে।
ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী আইআরজিসি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার চেষ্টা করেছিল বলেও অভিযোগ করে সেন্টকম।
সেন্টকম জানায়, ‘ইরানের ব্যর্থ হামলার পর খার্গ দ্বীপের উপকূলের কাছে আইআরজিসির তেলবাহী জাহাজ এমটি ডাউনি ও জাস্কের কাছে এমটি স্টার্ক-১ কে স্থায়ীভাবে অচল করে দেওয়া হয়েছে।’
সেন্টকম আরও জানায়, ‘গালফ অব ওমানে খালি থাকা তেলবাহী জাহাজ এমটি কাইলোও পুরোপুরি ধ্বংস করেছে মার্কিন বাহিনী। জাহাজটির ক্রুদের নেমে যেতে বলা হয় এবং এরপর জাহাজটিকে ধ্বংস করে দিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলা চালানো হয়।’
সেন্টকম প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্যান্য অস্ত্র জাহাজগুলোতে আঘাত করার পর বড় বড় আগুনের গোলা ও ঘন ধোঁয়া উঠছে।
সেন্টকমের দাবি, তিনটি জাহাজই ‘আইআরজিসি ও তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের অর্থায়নকারী বহু বিলিয়ন ডলারের গোপন নেটওয়ার্কের অংশ।’
অন্যদিকে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড দাবি করেছে, তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।’
তবে সেন্টকম বলেছে, ওই দুটি যুদ্ধজাহাজ সফলভাবে ইরানের হামলা এড়িয়ে গেছে।
অভিযানের পর সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, ‘আপনারা যদি আমাদের দুটি জাহাজে হামলা চালান, তাহলে আমরা আরও বড় অর্থনৈতিক মূল্য চাপিয়ে দেব— আপনাদের তিনটি জাহাজ ধ্বংস করে।’
তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন হামলার তীব্র সমালোচনা করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
তারা এ হামলাকে ‘অবৈধ ও আগ্রাসী কর্মকাণ্ড’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের জাস্ক থেকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক প্রতিবেদক জানান, হামলার শিকার ট্যাংকারগুলোর একটি খালি ছিল ও অন্যটিতে তেল ছিল। জাহাজগুলোর ক্রুদের লাইফবোটে করে তীরে নিয়ে যাওয়া হয়।
খার্গ দ্বীপ থেকে আরেক রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন প্রতিবেদক জানান, সেখানে চালানো হামলায় কেউ হতাহত হয়নি।
ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা অব্যাহত রাখলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বিরুদ্ধে তেহরানের পাল্টা হামলা ‘আগের চেয়ে আরও কঠোর হবে এবং এর পরিধি বাড়ারও আশঙ্কা রয়েছে।’
-বাসস
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন