মালয়েশিয়ায় দুর্বৃত্তের হাতে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার নিজপাড়া ইউনিয়নের গন্ডারঝাড় গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে মো. নজরুল ইসলামের মরদেহ দেশে আনা হয়েছে।
মরদেহ দেশে আসার পর সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নিজ বাসভবনে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
নজরুল ইসলামের জানাযায় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন ধলু, বীরগঞ্জ উপজেলা যুবদলের অন্যতম সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. আক্কাস আলী, নিজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনিসুর রহমান আনিস।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর জেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিক, সাধারণ সম্পাদক গোলাম আজম খান, বীরগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মো. মাহমুদুল হাসান, সাধারণ সম্পাদক মো. ফয়েজুল্লাহ ফয়েজসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
জানাযা শেষে মরহুম মো. নজরুল ইসলামের আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া করা হয়। পরে পারিবারিক গোরস্থানে তার মরদেহ দাফন সম্পন্ন করা হয়।
নজরুল ইসলামের এই নির্মম মৃত্যুতে শোকে বাকরুদ্ধ বৃদ্ধ বাবা মা।শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়। তার বাড়িতে ভিড় করছেন আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, সহপাঠী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভাগ্য বদলের আশায় সর্বস্ব বিক্রি করে বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন নজরুল ইসলাম (৪০)।
তিনি পরিবারের এক মাত্র উপার্জনকারী মানুষ। পরিবারের ঋণ শোধ করে স্বচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। মালয়েশিয়ায় দুর্বৃত্তের হামলায় নির্মমভাবে নিহত হন।
নিহত নজরুল ইসলাম বীরগঞ্জ উপজেলার নিজপাড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গন্ডারঝাড় নখাপাড়া গ্রামের মফিজ উদ্দিন ও রাবেয়া বেগম দম্পতির বড় ছেলে। পরিবারের তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি বড়। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক।
নিহতের চাচাতো ভাই হামিদুল ইসলাম জানান, জমিজমা না থাকায় এবং পরিবারের অভাব-অনটনের কারণে ধারদেনা করে প্রথমে কম্বোডিয়ায় যান নজরুল। সেখানে পৌঁছানোর পর দালালরা তার কাছ থেকে টাকা ও পাসপোর্ট নিয়ে একটি বাগানের কক্ষে রেখে উধাও হয়ে যায়। সেখানে দীর্ঘ ৬ থেকে ৭ মাস চরম মানবেতর জীবন কাটাতে হয় তাকে। খাবার সংগ্রহ করাও ছিল কষ্টসাধ্য। পরে এক ব্যক্তির সহায়তায় কোনোভাবে নিজেকে রক্ষা করেন। এরপর আবারও বাংলাদেশ থেকে টাকা নিয়ে দালালদের এক থেকে দুই লক্ষাধিক টাকা দিয়ে পানিপথে মালয়েশিয়ায় যান। সেখানে প্রায় এক মাস থাকার পর দুর্বৃত্তদের হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানতে পারে পরিবার।
পরিবারের সদস্যরা বলেন, বিদেশে থাকা অবস্থায় নজরুল নিজের কষ্টের কথা কখনো পরিবারের কাউকে জানাননি। দেশে ফিরতেও চাননি। কারণ, পরিবারের সব সম্বল বিক্রি করে বিদেশে গিয়েছিলেন তিনি। কিছু উপার্জন করে ঋণ শোধ করার স্বপ্নই ছিল তার একমাত্র লক্ষ্য। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে এখন তার মরদেহই দেশে ফেরার অপেক্ষায়।
নিহতের ছোট ভাই ফরিদুল ইসলাম বলেন, “আমার বড় ভাইয়ের মালয়েশিয়ায় যাওয়ার মাত্র এক মাস চার দিন হয়েছিল। গত ৩ আগস্ট বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আমরা তার মৃত্যুর খবর পাই।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন