জুলাই গণহত্যার বিচার, গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সার সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্নীতি-চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে লং মার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার বিকেল ৪টায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ী চৌরাস্তায়এক পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। পথসভা সফল করার লক্ষ্যে পলাশবাড়ী পৌর জামায়াত কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার সকালে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা আমীর মো. আব্দুল করিমের সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত জেলা সেক্রেটারি সৈয়দ রোকনুজ্জামানের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা আবদুল হালিম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, “জামায়াতে ইসলামী সবসময় গণমানুষের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে আসছে। এই লং মার্চ কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়; এটি দেশের নির্যাতিত ও অধিকারবঞ্চিত মানুষের পক্ষে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।”
তিনি আরও বলেন, “বিগত ১৫ বছর মানুষ ফ্যাসিবাদী শাসনের শিকার হয়েছে। ছাত্র-জনতার রক্তে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হলেও আজ যারা জুলাইয়ের চেতনা উপেক্ষা করে সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থে মত্ত, তারা মূলত দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিচ্ছেন। হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের পর আমরা দেশে আর কোনো রক্তের খেলা দেখতে চাই না।”
সরকারকে গণআকাঙ্ক্ষা বোঝার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “গণভোটের রায়কে শ্রদ্ধা জানিয়ে দেশকে সঠিক পথে পরিচালনা করতে হবে। জুলাই সনদ ও গণভোটের পূর্ণ বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।” কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কোনো অসাধু মহল যেন চক্রান্ত করতে না পারে, সেজন্য নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে থাকার আহ্বান জানান তিনি।
প্রস্তুতি সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও অঞ্চলের সহকারী পরিচালক অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, দিনাজপুর জেলার সাবেক আমীর আনোয়ারুল ইসলাম, গাইবান্ধা জেলা শাখার সাবেক আমীর ডা. আব্দুর রহিম সরকার, জেলা নায়েবে আমীর বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল ওয়ারেছ এবং জেলা রাজনৈতিক সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা সহকারী সেক্রেটারি মো. ফয়সাল কবির রানা, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য খায়রুল আমিন, সাইফুল ইসলাম মন্ডল, মাওলানা সাইদুর রহমান, জেলা শ্রমিক কল্যাণ সভাপতি নুরুন্নবী প্রধান ও সেক্রেটারি আবুল হোসেন নয়া মিয়া, গাইবান্ধা পৌর আমীর অধ্যাপক ফেরদৌস আলম, জেলা ছাত্র শিবিরের সেক্রেটারি ফাহিম মন্ডল, অফিস সেক্রেটারি মো. মিজানুর রহমানসহ গোবিন্দগঞ্জ, পলাশবাড়ী ও সাদুল্লাপুর উপজেলার নেতৃবৃন্দ।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন