সারাদেশে সারের কোনো ধরনের সংকট বা ঘাটতি নেই বলে নিশ্চিত করেছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার রতনপুর স্কুলমাঠে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা জানান। সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে সারের জন্য কোনো অতিরিক্ত অর্থ না দিতেও কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ডিলারদের অনিয়ম ঠেকাতে নজরদারি জোরদারের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সভায় সমাজকল্যাণমন্ত্রী উল্লেখ করেন, কিছু ডিলারের অনিয়ম ও অসম বণ্টনের কারণে মাঝেমধ্যে সাময়িক জটিলতা সৃষ্টি হয়। কৃষকের কাছে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে বর্তমান ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি নতুন সার ডিলার নিয়োগের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে সরকার। প্রতিটি ইউনিয়নে কে কতটুকু সার বরাদ্দ পাচ্ছেন এবং উত্তোলন করছেন, তার হিসাব জনসম্মুখে টানিয়ে দেওয়া হবে। সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে যাতে সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলা না যায়, সে লক্ষ্যে প্রশাসন কাজ করছে।
কৃষি খাতের সুরক্ষায় সরকারের গৃহীত নানা সুবিধার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, দায়িত্ব গ্রহণের সাত মাসের মধ্যে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। আগামী বছর থেকে কৃষক কার্ড চালু হলে সার, বীজ, কীটনাশক ও ঋণ পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে। পাশাপাশি অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে, যার বাইরে কোনো পরিবার থাকবে না।
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মন্ত্রী ঘোষণা করেন, আগামী চার বছরের মধ্যে সব মসজিদ, মন্দির ও গির্জার ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব, পুরোহিত ও ধর্মযাজকদের জন্য নিয়মিত আর্থিক প্রণোদনা চালু করা হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে আগামী বছর থেকে চালু হবে মিড-ডে মিল কর্মসূচি। এ ছাড়া উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরিতে অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য দেশের বাইরে গিয়ে পড়াশোনার ক্ষেত্রে বিশেষ সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন