নিজের সব উৎস্বর্গ করে দেওয়ার পরও মিলেনি বিয়ে, তাই বাধ্য হয়ে ছেলের বাড়িতে অনশন পালন করতে হচ্ছে ১৮ বছরের আয়েশা সিদ্দিকাকে। কিন্তু দুইদিন অতিবাহিত হলেও মিলেনি এখনো কোনো সুরাহা। এদিকে সুরাহা না মেলার পিছনে হাত রয়েছে স্থানীয় বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে, টাকার বিনিময়ে বিয়ে না দেওয়ার পায়তারা করছে ওই নেতা,এমনকি মেয়ের পরিবারকে টাকা দিয়ে বিষয়টি মিমাংসা করার কথাও বলা হয়েছে। ভুক্তভোগীর দাবী, বিয়ে করার লোভ দেখিয়ে ১ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক করে আসছেন একই উপজেলার ঘাসুড়িয়া গ্রামের ইব্রাহীমের ছেলে ইমন হোসেন। এদিকে মেয়ের দাবী,যেহেতু তার সাথে অনৌতিক সম্পর্ক করা হয়েছে সেহেতু তাকে বিয়ে করতে হবে বলে জানান তিনি। এদিকে ছেলের পরিবার জানিয়েছেন আমি ছেলে মেয়ের সম্পর্কের বিষয়ে কিছু জানিনা, তবে মেয়ে যেহেতু আসছে আমরা বৈঠকে কি করা যায় সেটি দেখবো। এদিকে এই ঘটনায় এলাকায় অস্থিতিশীল বিরাজমান করছে যার কারনে এটির ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান ইউপি সদস্য।
অনশনে বসা আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার নওদাপাড়ার গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা। সে গত বছর নওপাড়া বালিকা হাইস্কুল থেকে এসএসসি পরিক্ষার্থী ছিলে। স্কুলে লেখাপড়া করার সময় ইমনের সাথে পরিচয় হয় তার,এরপর থেকে তাদের মাঝে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। প্রায় এক বছর চলে তাদের মাঝে এই সম্পর্ক। এক পর্যায়ে তাদের মাঝে শারিরীক সম্পর্ক হয় বলে জানা যায়। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার শারিরীক সম্পর্ক করেছেন ইমন, এখন বিয়ের কথা বললে সে এরিয়ে যায়। তাই বাধ্য হয়ে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ছেলে ইমনের বাসায় আসলে তাকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয় ছেলের মা।
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় বিএনপির নেতা আশরাফ এবং মনসুর ছেলের পক্ষ থেকে টাকা খেয়ে ইমনকে বাড়ি থেকে পালাতে সহযোগিতা করে। এছাড়াও তারা মেয়ের পরিবারকে টাকা নিয়ে বিষয়টি মিমাংসা করতেও বলা হয়।
এবিষয়ে ওই বিএনপির নেতা আশরাফ সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমার বিষয়ে যা অভিযোগ উঠেছে সব মিথ্যা, আমি এমন কিছু বলিনি।
তবে ছেলের বাবার সাথে ইব্রাহীম সরকারের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমার ছেলের সাথে এতো বছরের সম্পর্ক আমি তো জানিনা বা আমাকে কেউ জানাইনি। তবে বৈঠকে বসে কি করা যায় সেটি দেখা যাবে।
কয়েকজন এলাকাবাসী বলেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন ইমন। তবে বর্তমানে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালে ওই কিশোরী বাধ্য হয়ে তার বাড়ির সামনে অনশন শুরু করেন। তারা আরও বলেন, আমরা এলাকাবাসী চাই দুইজনকে বিয়ে দিয়ে এই টার মিমাংসা করলে ভালো হতো।
খট্রামাধবপাড়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোবারক আলী জানান, দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক করে তাকে বিয়ে না করাই মেয়েটি অনশন করছে বিয়ের দাবীতে। এবিষয়ে আলাপআলোচনা চলছে, তবে ছেলের পরিবার কোন গুরুত্ব না দেওয়ার কারনে কোন সুরাহা করা যাচ্ছেনা বলে জানালেন তিনি।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন