লালমনিরহাটে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সামনে বিএনপির দুই গ্রুপের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। সে সময় পলাশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুর রহমানসহ ৩ জন আহত হয়েছেন। গতকাল রোববার রাত দেড়টার দিকে জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে জেলা বিএনপি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও নেতাকর্মীরা জানান, লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলের সঙ্গে তার চাচাত ভাই কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমের দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিগত নির্বাচনে মনোনায়ন বঞ্চিত হয়ে জাহাঙ্গীর আলম ও রোকন উদ্দিন বাবুল গ্রুপের অন্তদ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রুপ লাভ করে। দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্বে এ আসনের বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। নির্বাচনের সময় বিএনপির হয়ে কাজ না করে গোপনে বিরোধিতা করার অভিযোগ উঠে বিএনপির একটা অংশের বিরুদ্ধে। একটি অংশের নিবরতার পরেও বিএনপির হয়ে নির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন রোকন উদ্দিন বাবুল। এতে উভয় গ্রুপের দ্বন্দ্ব আরও প্রকট আকার ধারন করে। যার ফলশ্রুতিতে প্রতিটি দলীয় কর্মসুচি পৃথক পৃথক ভাবেও পালন করে আসছে উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীরা।
এই বিরোধের মাঝেই জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন গতকাল আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা করতে লালমনিরহাট আসেন। পরে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষ করে জেলা বিএনপির সভাপতি দুর্যোগ ব্যবস্থপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর সভাপতিত্বে রাত ১টার দিকে জেলা বিএনপি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন তিনি।
সে সময় কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমের অনুসারী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলকে নিয়ে সমালোচনা করেন। এ সময় অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত রোকন উদ্দিন বাবুলের অনুসারী ও সমর্থকরা তাৎক্ষণিক তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং ওই নেতার প্রতি ধানের শীষের বিরোধিতা করার অভিযোগ তুলেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে প্রধান অতিথি সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং জেলা বিএনপির সভাপতি ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর উপস্থিতিতে হাতাহাতি ও মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে পলাশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুর রহমান, কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ন-আহ্বায়ক শামছুজ্জামান সবুজ, একই উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আখেরুজ্জামান স্বাধীন আহত হন। আহতদের মধ্যে হামিদুর রহমানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
সে সময় উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের ধারন করা সংঘর্ষের ভিডিও মুছে দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।
পরে জেলা বিএনপির সভাপতি ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনার পর থেকে লালমনিরহাট জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে থমথমে অবস্থা ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
আহত হামিদুর রহমানের ছেলে নাসির ইমতিয়াজ নিলয় বলেন, ‘আমার বাবা অসুস্থ। তাকে কার্ডিওলজি বিভাগের সিসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি মধ্যরাতে দলীয় কার্যালয়ে মতবিনিময় সভায় গিয়ে ধাক্কা ধাক্কিতে অসুস্থ হয়েছেন।’
এ বিষয়ে জানতে জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক জেলা পরিষদ প্রশাসক একেএম মমিনুল হককে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।
লালমনিরহাট সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ বলেন, ‘জেলা বিএনপির মতবিনিময় সভায় উত্তেজনা হয়েছিল। তবে কি কারণে হয়েছে তা আমাদের জানা নেই। খবর পেয়ে গিয়ে দেখি পরিবেশ শান্ত হয়েছে। হামিদুল নামে একজন অসুস্থ হলে আমাদের গাড়িতে নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’
সভায় জেলা বিএনপির সভাপতি দুর্যোগ ব্যবস্থপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এছাড়াও লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান ও লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন