ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করতে নীলফামারীর ডিমলায় প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল ১০০টি ঘর। কিন্তু হস্তান্তরের কয়েক বছর পরও ‘ঝুনাগাছা আশ্রয়ণ প্রকল্পে’র ৯০টি ঘরই তালাবদ্ধ অবস্থায় পরিত্যক্ত পড়ে আছে। ১০০টি পরিবারের আশ্রয়ের জন্য নির্মিত এই প্রকল্পে বর্তমানে বসবাস করছে মাত্র ১০টি পরিবার। স্থানীয়দের অভিযোগ—প্রকৃত গৃহহীনদের বঞ্চিত করে অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে সচ্ছল ব্যক্তিদের নামে এসব ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে ঝুনাগাছা আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ১০০টি ঘর নির্মাণ করা হয়। সে সময় প্রতিটি ঘর তৈরিতে সরকারের ব্যয় হয় দুই লাখ টাকা। নির্মাণকাজ শেষে বরাদ্দপ্রাপ্তদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরগুলো হস্তান্তরও করা হয়। তবে হস্তান্তরের পর থেকেই সিংহভাগ ঘরে কেউ কোনোদিন থাকতে আসেননি।
স্থানীয় অধিবাসীদের অভিযোগ, উপকারভোগী বাছাই প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া অনেক ব্যক্তিরই নিজস্ব জমি ও পাকাবাড়ি রয়েছে। এর পাশাপাশি প্রকল্পের জমির মালিকানা নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধ এবং লোকালয় থেকে দূরে জনমানবহীন প্রত্যন্ত এলাকায় এটি অবস্থিত হওয়ায় অনেকে এখানে থাকতে আগ্রহী হননি। ফলে বিশাল অঙ্কের সরকারি টাকায় নির্মিত এই প্রকল্প এখন খাঁ খাঁ করছে।
বিষয়টি স্বীকার করে ডিমলা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, ঘর বরাদ্দ পাওয়ার পরও যারা বসবাস করছেন না, প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে ভুয়া বরাদ্দ বাতিল করে প্রকৃত গৃহহীনদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান জানান, বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত তদন্ত পরিচালনা করা হবে এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুই ধাপে দেশজুড়ে গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য বিপুল সংখ্যক ঘর নির্মাণ করা হয়। তবে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগেই এসব আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ ও মান নিয়ে সারা দেশে নানামুখী অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন