জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এক মুঠো খাবার আর চিকিৎসার আকুতি জানাচ্ছেন ৮৪ বছরের অসহায় বৃদ্ধা সবিজন বেগম। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শরীর, এক চোখের দৃষ্টিশক্তি আগেই হারিয়েছেন, ঠিকমতো হাঁটতেও পারেন না। জীবনের এই কঠিন সময়ে এসে তাঁর সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা—আগামী বেলার খাবারটুকু মিলবে তো?
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের বানিয়ারভিটা গ্রামের বাসিন্দা সবিজন বেগম। বর্তমানে তাঁর থাকার ঘরটির অবস্থাও অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও বসবাসের অযোগ্য।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সবিজন বেগমের এক ছেলে রয়েছে। তবে সে আলাদা থাকে এবং নিজের অভাবের সংসারে মায়ের খোঁজখবর নেওয়ার সামর্থ্য তার নেই। অন্য দুই মেয়ের বিয়ে হলেও তাঁদের নিজেদের সংসারের অবস্থাও টানাটানির। ফলে জীবনের শেষ দিনগুলোতে এসে অসহায় এই বৃদ্ধার মূল ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছেন প্রতিবেশীরা।
তবে গ্রামের মানুষের পক্ষেও স্থায়ীভাবে তাঁর দায়িত্ব নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ঘরে খাবার নেই, প্রয়োজনীয় চিকিৎসার কোনো সুযোগ নেই। বাধ্য হয়েই কাঁপানো হাতে মানুষের দ্বারে দ্বারে হাত বাড়িয়ে আকুতি জানান— "আমাকে একটু খাবার দেন, চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।"
যে মা একদিন নিজের হাতে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিয়েছেন, আজ জীবনের শেষ বয়সে এসে তাঁকে এক মুঠো অন্ন ও ওষুধের জন্য অপরের দয়ার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, বিত্তবান বা সমাজের সচেতন মানুষদের সামান্য সহায়তাই হতে পারে সবিজন বেগমের একবেলার খাবার কিংবা প্রয়োজনীয় ওষুধের সংস্থান। সমাজের সর্বস্তরের মানুষ যদি নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী এই অসহায় বৃদ্ধার পাশে দাঁড়ায়, তবে হয়তো তাঁর অবশিষ্ট জীবনের দিনগুলোতে একটু স্বস্তি ফিরতে পারে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন