পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে এসে পাসপোর্ট হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন ভারতের তিন নাগরিক। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে দেবীগঞ্জ পৌরসভার ব্রিজপাড় থেকে ব্যাটারিচালিত ভ্যানে দণ্ডপাল ইউনিয়নের কালীগঞ্জ বাজারে যাওয়ার পথে তাদের তিনটি পাসপোর্ট হারিয়ে যায়।
হারিয়ে যাওয়া পাসপোর্টের মালিকরা হলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি জলপাই মোড় এলাকার বাসিন্দা শ্রী কাঞ্চন চন্দ্র দাস, তার স্ত্রী শরদীনি রানী দাস ও নাতনি মায়া রানী দাস।
ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তারা। এরপর পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার শিবেরহাট এলাকায় নাতনি জামাই বিশ্বাস দাসের বাসায় যাওয়ার কথা ছিল তাদের। পরে সেখান থেকে পাশের নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ীতে কাঞ্চন চন্দ্র দাসের ভাইয়ের বাসায় যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করে দেবীগঞ্জে পৌঁছাতে রাত প্রায় ১২টা বাজে। পরে দেবীগঞ্জ পৌরসভার ব্রিজপাড় থেকে ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে দণ্ডপাল ইউনিয়নের কালীগঞ্জ বাজারের দিকে রওনা হন তারা।
এ সময় তিনটি পাসপোর্ট একটি ছোট লাল ব্যাগে রেখে কাঞ্চন চন্দ্র দাস তার নাতনি মায়া রানী দাসের হাতে দেন। কিছুদূর যাওয়ার পর মায়া রানী ব্যাগটি তার দাদি শরদীনি রানী দাসের হাতে দেন। একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত ব্যাগটি রাস্তায় পড়ে যায়। কালীগঞ্জ বাজারে পৌঁছে চায়ের দোকানে গিয়ে তারা দেখতে পান, পাসপোর্টসহ লাল ব্যাগটি নেই। পরে রাতে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও ব্যাগটির সন্ধান মেলেনি।
মঙ্গলবার সকাল থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পাশাপাশি মাইকিং করা হয়। এরপরও পাসপোর্টগুলো না পাওয়ায় দুপুরে দেবীগঞ্জ থানায় জিডি করতে আসেন তারা।
এবিষয়ে ভুক্তভোগী কাঞ্চন চন্দ্র দাস বলেন, ‘আমি এর আগেও পাঁচ-সাতবার বাংলাদেশে এসেছি। কিছুদিন আগে আমার ভাইস্তা মারা গেছে। তখন আসতে পারিনি। এজন্য ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে বাংলাদেশে আসা।
তিনি বলেন, ‘গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করে বাংলাদেশে আসি। বাংলাবান্ধায় ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করে রাত ১২টার দিকে দেবীগঞ্জে পৌঁছাই। ভ্যানে করে শিবেরহাটে নাতনি জামাইয়ের বাসায় যাওয়ার পথে আমার সঙ্গে আসা নাতনির হাতে থাকা ছোট একটা লাল ব্যাগ হারিয়ে যায়। ওই ব্যাগেই আমাদের তিনজনের পাসপোর্ট ছিল। গতকাল এবং আজ অনেক খুঁজেছি, কিন্তু এখনো পাইনি।
এবিষয়ে মুঠোফোনে দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মুসা মিয়ার সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় মন্তব্য জানা যায়নি।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন