ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় সরবরাহকৃত মিড ডে মিলের দুধ খেয়ে শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা খতিয়ে দেখতে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অঞ্জন কুমার দাস।
কমিটির প্রধান করা হয়েছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পলাশ চন্দ্র রায়কে। অন্য সদস্যরা হলেন—উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার তুষার চন্দ্র সিংহ, বালিয়াডাঙ্গী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আমানউল্লাহ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. মমিনুল ইসলাম এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায়।
গঠিত তদন্ত কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইউএনও অঞ্জন কুমার দাস জানান, কর্মসূচির আওতায় সরবরাহ করা খাবার এবং অসুস্থ হওয়ার আগে শিক্ষার্থীরা যা খেয়েছিল, তার সমস্ত নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “সংগৃহীত নমুনাগুলো পরীক্ষার জন্য ঢাকার বিএসটিআই ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, গতকাল মিড ডে মিলের অংশ হিসেবে দেওয়া দুধ খেয়ে উপজেলার মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মধ্য গোয়ালকারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অন্তত ৩৫ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে দুপুর থেকে তাদের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. আহাদুজ্জামান জানান, “হাসপাতালে আনার পর শিক্ষার্থীদের অনেকের মধ্যেই বমি ভাব ও পেটে ব্যথার লক্ষণ ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি ফুড পয়জনিং বা খাদ্যে বিষক্রিয়াজনিত কারণে ঘটেছে।”
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র থেকে জানা গেছে, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মোট ১৩৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে এই স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু রয়েছে। এই কর্মসূচির নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি সপ্তাহের সোমবারে শিক্ষার্থীদের মিড ডে মিল হিসেবে বনরুটি এবং ২০০ মিলিলিটার ইউএইচটি (আলট্রা হাই টেম্পারেচার) দুধ পরিবেশন করা হয়ে থাকে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন