জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণকালে গাজার অবিলম্বে পুনর্গঠন শুরু এবং ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান।
একই সঙ্গে তিনি বৈশ্বিক শান্তি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদসহ পুরো আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কারের ওপর তীব্র গুরুত্বারোপ করেছেন।
ভাষণের শুরুতেই ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস টানা দুই বছর জাতিসংঘে উপস্থিত থাকতে না পারার তীব্র সমালোচনা করেন এরদোগান।
ভাষণের শুরুতেই ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস টানা দুই বছর জাতিসংঘে উপস্থিত থাকতে না পারার তীব্র সমালোচনা করেন এরদোগান।
তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের অধিকার হরণের এই অবিচার বিশ্ববাসীর বিবেককে আহত করছে। গাজার বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘আমাদের যুগের সবচেয়ে অমানবিক ও লজ্জাজনক কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প’ হিসেবে উল্লেখ করে তুর্কি প্রেসিডেন্ট জানান, বিগত তিন বছরে গাজায় ৭৪ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
গাজা বর্তমানে শিশুদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় কবরস্থানে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মহলের নিষ্ক্রিয়তার কারণে সেখানে প্রতিদিন মানবতা লঙ্ঘিত হচ্ছে। এছাড়া ফিলিস্তিনের পাশাপাশি লেবানন, সুদানসহ বিভিন্ন সংকটপূর্ণ অঞ্চলে জাতিসংঘের নিষ্ক্রিয়তা বিশ্ববাসীকে হতাশ করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বর্তমান বৈশ্বিক কাঠামোর সমালোচনা করে এরদোগান বলেন, ১৯০টিরও বেশি দেশের ভাগ্য মাত্র পাঁচটি দেশের মর্জির ওপর ছেড়ে দেওয়া কোনোভাবেই ন্যায্য হতে পারে না। বিশ্বকে আরও একটি সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে হলে বিশ্ব পাঁচের চেয়ে বড় এই নীতির ভিত্তিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের আমূল সংস্কার করতে হবে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন শুধু শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর জন্য একরকম আর দুর্বলদের জন্য অন্যরকম হতে পারে না, দায়মুক্তির সংস্কৃতি বিশ্বব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে তুরস্কের অবস্থান তুলে ধরে এরদোগান জানান, সিরিয়ায় দীর্ঘ ১৪ বছরের কষ্টের অবসান ঘটিয়ে প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারাার নেতৃত্বে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় তুরস্কের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। নতুন ভাষা শিখুন
পাশাপাশি, ইরাকের সঙ্গে কৌশলগত পরিবহন ও জ্বালানি প্রকল্পে কাজ করার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়ে তিনি বলেন, ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা বজায় রেখে এই সংঘাতের অবসান চায় আঙ্কারা। এছাড়া আগামী নভেম্বরে আনতালিয়াতে অনুষ্ঠিতব্য কপ৩১ জলবায়ু সম্মেলনের স্বাগতিক দেশ হিসেবে তুরস্ক জলবায়ু ন্যায়বিচার ও পরিবেশ রক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে বলে জানান তিনি।নতুন ভাষা শিখুন
পশ্চিমা বিশ্বে ইসলামভীতি (ইসলামোফোবিয়া), বর্ণবাদ ও সেন্সরশিপের নামে মানবাধিকার লঙ্ঘনের তীব্র সমালোচনা করেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট।নতুন ভাষা শিখুন
তিনি বলেন, স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধ করার মতো বিষয়গুলো নারীদের মৌলিক অধিকারের ওপর সরাসরি আক্রমণ। এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার রোধে অবিলম্বে একটি সাধারণ আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো প্রণয়নের তাগিদ দেন তিনি।
ভাষণের শেষ পর্যায়ে এরদোয়ান বলেন, কিছু শক্তির স্বার্থে আঘাত লাগলেও তুরস্ক কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবে না এবং নির্যাতিত মানুষের পক্ষে কথা বলা চালিয়ে যাবে।
প্রয়াত তুর্কি কবি সেজাই কারাকোচের পঙক্তি উল্লেখ করে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ‘মানুষ চুপ থাকলেও ইতিহাস ও সত্য কখনোই চুপ থাকে না।’
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন