হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) মেস ও ছাত্রাবাস থেকে দুই মেধাবী শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গভীর শোক ও চরম ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৩ সেপ্টেম্বর ‘ফজিলা মেস’ থেকে সিনথিয়া নামে এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে ২০২২ সালের ১৯ মার্চ ‘ব্লু মুন স্টুডেন্ট হাউজ’ নামের একটি ছাত্রাবাস থেকে মিজানুর রহমান (২৩) নামের অপর এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।
প্রথম দৃষ্টিকোণ থেকে ঘটনাগুলোকে ‘আত্মহত্যা’ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও, দু'টি মৃত্যুর দৃশ্যপট ও পারিপার্শ্বিক আলামত ঘিরে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। অকালপ্রয়াত এই দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর করুণ ও স্পর্শকাতর দৃশ্য দেখে নিছক আত্মহত্যা বলে মেনে নিতে নারাজ সহপাঠী ও স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, ঘটনার ভেতরের দৃশ্যপট অত্যন্ত রহস্যজনক এবং এর গভীরে অন্য কোনো কারণ লুকিয়ে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
বিস্ময়করভাবে, এই দুটি রহস্যময় মৃত্যুর মাঝে রয়েছে একাধিক অদ্ভুত মিল। অকালে প্রাণ হারানো সিনথিয়া এবং মিজানুর রহমান—উভয়েই ছিলেন হাবিপ্রবির অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী। কেবল একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীই নন, কাকতালীয়ভাবে দু'জনেরই নিজ জেলা গাজীপুর।
প্রায় ৪ বছরের ব্যবধানে একই বিশ্ববিদ্যালয় ও একই জেলার দুই প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ-তরুণীর এমন মর্মান্তিক ও রহস্যজনক পরিণতিতে ক্যাম্পাস জুড়ে বিরাজ করছে চাপা উৎকণ্ঠা ও শোকের ছায়া। দুটি মৃত্যুর পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য সামনে আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন