দেশে একটি মৃদু মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল রাজধানী ঢাকার অদূরে (৫১ কিলোমিটার দূরে) নরসিংদী জেলার শিবপুর। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ২।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর।
তবে এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রগুলোও বলছে, মৃদু ভূমিকম্পের কারণে সাধারণ মানুষ ঠিকঠাকভাবে টের পাননি।
ভারতীয় ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) বলছে, নরসিংদীর এই ভূমিকম্পটি ভূপৃষ্ঠের অন্তত ৩৬ কিলোমিটার গভীরে উৎপত্তি হয়েছে।
যদিও এদিন সারা বিশ্বে ৪০টির বেশি ভূমিকম্প রেকর্ড করলেও বাংলাদেশ তথা নরসিংদীর ভূমিকম্পটি রেকর্ড করেনি মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা- ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস)।
তবে ইউরোপিয়ান ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প কেন্দ্র (ইএমএসসি) নরসিংদীর ভূমিকম্পটি রেকর্ড করেছে।
এনসিএসের তথ্যের ভিত্তিতে ইএমএসসি জানায়, বাংলাদেশ সময় বেলা ১২টা ১৫ মিনিট ২৭ সেকেন্ড ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়। এটি নরসিংদী থকে ১৬ কিলোমিটার উত্তরে উৎপত্তি ঘটে।
এর আগে, চলতি বছরের ১৭ আগস্ট নরসিংদীতে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তারপর রিখটার স্কেলে ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৩। এ ছাড়া, সে সময়ও এর উৎপত্তিস্থল ছিল শিবপুর।
তারও আগে, ২২ জুন নরসিংদী ও আশপাশের এলাকায় ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল তখন নারায়ণগঞ্জ।
বাংলাদেশ ভূমিকম্প কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানান, সক্রিয় ভূমিকম্প প্রবণতার মধ্যে অবস্থান করছে দেশ। বিশেষ করে ত্রিভুজাকার ভারতীয়, ইউরেশীয় ও বার্মা প্লেটের চাপ বাংলাদেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের দিকে বাড়ছে। তারা বলেন, ‘ঢাকা এত ঘনবসতিপূর্ণ যে বড় ভূমিকম্প হলে উদ্ধার তৎপরতা চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে পুরান ঢাকা, মোহাম্মদপুর, মগবাজার, মিরপুর ও যেসব এলাকায় অনিয়ন্ত্রিতভাবে ভবন গড়ে উঠেছে সেসব এলাকা।
সেইফটি ম্যানেজমেন্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশে বিল্ডিং নির্মাণ করার জন্য যে, কোড রয়েছে। সেই কোড অনুযায়ী বিল্ডিং নির্মাণ না করা হয়, তাহলে সেটি হবে ঝুঁকিপূর্ণ হবে। ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প ৩০-৪০ সেকেন্ডের হয়, তাহলে ঢাকা শহরের ৭২ হাজার বিল্ডিং ধসে পড়বে। সেটি উদ্ধার করার মতো যন্ত্রপাতি বা সক্ষমতা আমাদের নেই। বাহিরের (বিদেশ) সহায়তা ছাড়া আমরা মোকাবিলা করতে পারবো না।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে যে, ভবনগুলো রয়েছে, সেগুলো ঝুঁকি নিরুপন করা গুরুত্বপূর্ণ। আমি বা আপনি যে, ভবনে বসবাস করছি, সেটি কতটুকু ঝুঁকি মুক্ত এবং কী কী ঝুঁকি রয়েছে। ভবনটা নিরাপদ করতে হলে কী কী করা প্রয়োজন, সেটি নিয়ে ভাবতে হবে এবং পদক্ষেপ নিতে হবে। সেইসঙ্গে বিল্ডিং কোড মানার কঠোর নির্দেশনা ও পদক্ষেপ নিতে হবে।’
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন