ঠাকুরগাঁওয়ে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সদর উপজেলার নারগুন ইউনিয়নের নারগুন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
প্রাথমিক পর্যায়ে ঠাকুরগাঁও সদর ও রুহিয়া এলাকার ২ হাজার ৫১৭ জন কৃষককে কৃষক কার্ডের আওতায় আনার মধ্য দিয়ে জেলায় এ কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হয়।
এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ১ হাজার ১৪৮ জন এবং রুহিয়া এলাকার ১ হাজার ৩৬৯ জন কৃষক রয়েছেন।
জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জরিপের মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন এলাকার প্রকৃত কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন করা হয়। পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই শেষে ১১ হাজার ৬৪৮ জন কৃষকের তালিকা চূড়ান্ত করে ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত কৃষকদের মাঝে কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে।
কৃষক কার্ডের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের সরকারি কৃষিসেবা, কৃষি উপকরণ, প্রণোদনা ও বিভিন্ন সহায়তা সহজ ও স্বচ্ছভাবে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে কৃষকদের সরকারি সহায়তা পাওয়ার প্রক্রিয়া আরো সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নারগুন ইউনিয়নের কহরপাড়া ব্লকের ৯৬৫ জন কৃষক এবং রুহিয়া এলাকার কুজিশহর ব্লকের ১ হাজার ১৭২ জন কৃষক কৃষি উপকরণ সহায়তা হিসেবে জনপ্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পেয়েছেন।
কৃষক কার্ড পেয়ে উপকারভোগী কৃষকদের মধ্যে আনন্দ ও স্বস্তি দেখা যায়। তারা জানান, কৃষিকাজে সার, বীজ, কীটনাশকসহ বিভিন্ন উপকরণের ব্যয় দিন দিন বাড়ছে। এ অবস্থায় সরকারি সহায়তা সরাসরি পাওয়ার সুযোগ তাদের কৃষিকাজে সহায়ক হবে।
উপকারভোগী কৃষকরা বলেন, কৃষক কার্ড পাওয়ায় আমরা খুশি। কৃষিকাজের জন্য সরকারের কাছ থেকে সহায়তা সরাসরি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই সহায়তা আমাদের মতো কৃষকদের জন্য বেশ উপকারি।
তারা আরো বলেন, কৃষক হিসেবে সরকারি সুযোগ-সুবিধা সহজে পাওয়ার প্রত্যাশা করছি। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে যদি নিয়মিত কৃষি সহায়তা পাওয়া যায়, তাহলে আমাদের উৎপাদন খরচ কিছুটা কমবে এবং কৃষিকাজে উৎসাহ বাড়বে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, কৃষি মন্ত্রণালয়ের রংপুর বিভাগীয় উপপরিচালক হাতেম আলী, ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাজেদুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ঠাকুরগাঁওয়ের উপ-পরিচালক মাজেদুল ইসলাম বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের চিহ্নিত করে তাদের কাছে সরকারি কৃষিসেবা ও প্রণোদনা সহজে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলার আরো কৃষককে এই কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা আরো সহজে, দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি কৃষি খাতে সরকারি সহায়তা কার্যক্রম আরো কার্যকর হবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন