একসময় পার্বতীপুরে রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মনছুর আলী ক্যাপ্টেন। জীবনের শেষদিকে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে দেখতে বাড়িতে গিয়েছিলেন তৎকালীন বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া—এমন দাবি করেছে তাঁর পরিবার।
পরিবারের ভাষ্য, ১৯৮৮ সালে পার্বতীপুরের জিন্দা মাঠে একটি কর্মসূচিতে যোগ দিতে এসে খালেদা জিয়া অসুস্থ মনছুর আলী ক্যাপ্টেনকে দেখতে তাঁর বাড়িতে যান। সে সময় তাঁকে পাঁচ হাজার টাকার একটি চেক দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি পরিবারের।
তবে কয়েক দশক পর সেই পরিবারের চিত্র এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্বজনদের দাবি, মনছুর আলী ক্যাপ্টেনের ছেলে-মেয়েদের অনেকেরই থাকার মতো নিজস্ব ঘরবাড়ি নেই। চরম আর্থিক সংকটে পরিবারের সদস্যদের কেউ কেউ অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে, আবার কেউ মানুষের কাছ থেকে সামান্য সহায়তা নিয়ে জীবনযাপন করছেন।
স্বজনদের ভাষ্য, পরিবারের একজন সদস্য কখনো মানুষের বাড়ির বারান্দায় রাত কাটাচ্ছেন, আবার কখনো ৫-১০ টাকা করে সহায়তা নিয়ে দিন পার করছেন। পরিবারটির নারী ও শিশু সদস্যদের কয়েকজন বর্তমানে কোথায় কী অবস্থায় রয়েছেন, সে বিষয়েও সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি স্বজনরা।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, মনছুর আলী ক্যাপ্টেনের মুক্তিযোদ্ধা ভাতা চালু না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা আর্থিক সংকটে রয়েছেন। তাঁদের দাবি, তিনি যদি সরকারি নথিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃত হয়ে থাকেন, তাহলে তাঁর পরিবারের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হোক।
পরিবারের এক সদস্য বলেন, “আমরা কারও কাছে রাজনৈতিক সুবিধা চাই না। আমাদের বাবা যদি সরকারি নথিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃত হয়ে থাকেন, তাহলে তাঁর মুক্তিযোদ্ধা ভাতা চালু করা হোক। আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই ও স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার সুযোগটুকু দেওয়া হোক।”
এ বিষয়ে মোস্তাফিজুর রহমান নামে একজন নিজেকে বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি বিভিন্ন নাশকতার মামলায় আসামি ছিলেন। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক পরিচয় বা অতীতের মামলা দিয়ে মনছুর আলী ক্যাপ্টেনের পরিবারের বর্তমান দুরবস্থাকে দেখলে হবে না; পরিবারটি বর্তমানে কী অবস্থায় আছে, সেটিই গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কাছে মনছুর আলী ক্যাপ্টেনের মুক্তিযোদ্ধা সনদ, গেজেট, মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম এবং ভাতা-সংক্রান্ত নথি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
তবে মনছুর আলী ক্যাপ্টেনের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি, ভাতা বন্ধ থাকার কারণ এবং ১৯৮৮ সালে তাঁকে পাঁচ হাজার টাকার চেক দেওয়ার দাবির সত্যতা সরকারি নথি যাচাই ছাড়া নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এসব বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং সংরক্ষিত সরকারি নথির বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
একজন মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের বর্তমান জীবনযাত্রা যদি সত্যিই এমন হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি শুধু একটি পরিবারের দারিদ্র্যের গল্প নয়—এটি সরকারি স্বীকৃতি, ভাতা ও সামাজিক নিরাপত্তার সুযোগ-সুবিধা যথাযথভাবে পৌঁছাচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে আনে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন