কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে কাশবনে এক তরুণীকে আটকে রেখে কয়েক দিন ধরে পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে পাঁচ ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মোখলেছুর রহমান মিঠু (৩৫) নামে অভিযুক্ত এক ধর্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ওই তরুণীকে উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) আজিম উদ্দিন।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের নলেয়া রশিদ মোড় এলাকা থেকে পুলিশ ওই তরুণীকে উদ্ধার করে।
গ্রেপ্তার মোখলেছুর রহমান মিঠু ভূরুঙ্গামারী উপজেলার নলেয়া রশিদ মোড় এলাকার বাসিন্দা।
অপর অভিযুক্তরা হলেন নাইনুল ইসলাম, লিটন মিয়া, আল আমিন ও ফুল মিয়া ওরফে ফুলবর। তারা সবাই ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী তরুণীসহ তিন তরুনীকে নাচ-গান করাতে গত ২৫ সেপ্টেম্বর ভূরুঙ্গামারী উপজেলার চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের সামাদের ঘাট এলাকায় নিয়ে আসা হয়। সেখানে কাশবনের ভেতর একটি চায়ের দোকানের আড়ালে নাচ-গানসহ অনৈতিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়। ২৯ সেপ্টেম্বর দুই তরুনী চলে গেলেও ভুক্তভোগী তরুণীকে আটকে রাখা হয়। ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে তাকে আটকে রেখে সামাদের ঘাটসংলগ্ন কাশবনের ভেতর নিয়ে মোখলেছুর রহমান মিঠু, নাইনুল ইসলাম, লিটন মিয়া, আল আমিন ও ফুল মিয়া ওরফে ফুলবর পালাক্রমে ধর্ষণ করেন।
এ সময় ভুক্তভোগীর কাছে থাকা ৫ হাজার ৬০০ টাকা ও একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনও কেড়ে নেওয়া হয়।
পরে বাড়ি ফেরার মতো টাকা না থাকায় ভুক্তভোগী অভিযুক্তদের কাছে টাকা চাইতে নলেয়া রশিদ মোড় এলাকায় যান। সেখানে টাকা না পেয়ে তিনি বিপাকে পড়েন। বিষয়টি স্থানীয় কয়েকজনের নজরে এলে তারা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই তরুণীকে উদ্ধার করে। এ সময় মোখলেছুর রহমান মিঠুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী তরুণীর বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলায়। তাকে উদ্ধারের পর তার পরিবারের লোকজনকে খবর দেওয়া হয়েছে।
ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর চারজন বাড়িছেড়ে পালিয়ে গেছেন। ‘ভুক্তভোগী তুরনীকে উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে মেডিকেল টেস্টের জন্য,’ ওসি বলেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন