সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ এখন পুরোদমে চলছে। দিন-রাত পরিশ্রম করে দেবী দুর্গাসহ লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা।দুর্গাপূজার আর ১৩ বাকি থাকায় প্রতিমা তৈরির কারিগরদের যেন দম ফেলার সময় নেই। কেউ মাটি প্রস্তুত করছেন, কেউ বাঁশ ও খড় দিয়ে প্রতিমার কাঠামো তৈরি করছেন। আবার কেউ কাঠামোর ওপর ধাপে ধাপে মাটি লাগিয়ে প্রতিমার আকৃতি ফুটিয়ে তুলছেন। এরপর প্রতিমা শুকানো, রঙের প্রলেপ দেওয়া এবং বিভিন্ন ধরনের সাজসজ্জার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হচ্ছে। একেকটি প্রতিমা তৈরির কাজ বেশ সময়সাপেক্ষ ও শ্রমনির্ভর। সাধারণত একজন মূল কারিগরের সঙ্গে আরও দুই থেকে তিনজন সহকারী কাজ করেন। একটি মৃৎশিল্পী দল দুর্গাপূজার মৌসুমে প্রায় ৬ থেকে ৭টি প্রতিমা তৈরির বায়না নিয়ে থাকে। প্রতিমা তৈরিতে কারিগরদের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতাও চলে কার প্রতিমা কত বেশি সুন্দর ও নিখুঁত হবে। যার কাজ যত সুন্দর, বাজারে তার চাহিদাও তত বেশি। তবে মেধা ও শ্রমের তুলনায় কাঙ্ক্ষিত পারিশ্রমিক পান না বলে জানান কারিগররা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কারিগর আক্ষেপ করে বলেন, সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে সব শ্রেণির মানুষ থাকেন। সবাই তো সমান অর্থ দিতে পারেন না, তাই আমাদের মজুরিও কম হয়। তবুও পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে শেখা এই পেশা নেশায় পরিণত হয়ছে বলেই আঁকড়ে ধরে রেখেছি। এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটি সূত্রে জানা যায়, এ বছর নবাবগঞ্জ উপজেলার ৯ টি ইউনিয়নে প্রায় ৭৭ টি পূজা মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি মন্দিরে প্রতিহ রচমা তৈরির কাজ পুরোদমে চলছে। হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের নবাবগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি প্রকৌশলী গজেন চন্দ্র বর্মণ স্বপন জানান, প্রশাসনিক সহযোগিতায় , রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসীর প্রচেষ্টায় প্রতিটি মণ্ডপেই পূজা সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে বলে আমরা আশাবাদী। আয়োজকেরা জানান, ১৭ অক্টোবর শনিবার ষষ্ঠীর বোধনের মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব। নবাবগঞ্জ থানার কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস বলেন, দুর্গাপূজার সময় কড়া নিরাপত্তা দেওয়া হবে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিধান কান্তি হালদার বলেন, উপজেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের সংশ্লিষ্টদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করা হয়েছে। কোনো এলাকার মন্দির ঝুঁকিপূর্ণ থাকলে সেখানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন