দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত কয়লা খনি বাস্তবায়নের বিরোধিতা করে খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের আমবাড়ী বাজারে প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের নেতা আবুল খায়েরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদসভায় বক্তব্য দেন জাতীয় কমিটির ফুলবাড়ীর আহ্বায়ক হামিদুল হক, এসএম নুরুজ্জামান জামান, সঞ্জিত প্রসাদ জিতু, একরামুল হক, হিমেল মন্ডল, কমল চক্রবর্তী, ছাত্রনেতা নাসিমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, ফুলবাড়ীর প্রস্তাবিত কয়লাখনি প্রায় ১৩৫ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। এ খনি উন্মুক্ত পদ্ধতিতে বাস্তবায়ন করা হলে প্রায় ৬৫৬ বর্গকিলোমিটার এলাকায় এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তাদের দাবি, উন্মুক্ত কয়লাখনি হলে কৃষিজমি, বসতবাড়ি, হাট-বাজার, মসজিদ, গির্জা ও মন্দিরসহ জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে ভূগর্ভস্থ পানির ওপরও ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
নেতৃবৃন্দের দাবি, উন্মুক্ত কয়লাখনি বাস্তবায়ন হলে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমি হারিয়ে যেতে পারে এবং বিপুল পরিমাণ সুপেয় পানির উৎস ধ্বংসের আশঙ্কা রয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এতে প্রায় দুই লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, কেবল বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানির স্বার্থে ফুলবাড়ীর উন্মুক্ত কয়লাখনি বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে তা স্থানীয় জনগণের স্বার্থবিরোধী হবে। তারা এ ধরনের উদ্যোগ থেকে সরকারকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
সমাবেশে বক্তারা ২০০৬ সালের ফুলবাড়ী আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, তৎকালীন সরকারের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের যে ছয় দফা সমঝোতা হয়েছিল, তা বাস্তবায়ন করতে হবে। তারা দাবি করেন, ফুলবাড়ীতে কোনোভাবেই উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করা যাবে না।
এ সময় নেতৃবৃন্দ বর্তমান সরকারের অবস্থান ও জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্য পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে ফুলবাড়ী আন্দোলনের ছয় দফা চুক্তি বাস্তবায়নের দাবি জানান।
প্রতিবাদসভা শেষে নেতাকর্মীরা অম্রবাড়ী বাজারে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিল থেকে উন্মুক্ত কয়লাখনি বিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয় এবং ফুলবাড়ীসহ আশপাশের এলাকার কৃষিজমি, পানি ও পরিবেশ রক্ষার দাবি জানানো হয়।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন