গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে মসজিদে যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে মুয়াজ্জিন জহুরুল ইসলাম প্রধানকে (৪৯) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি মাহফুজ আলম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে, বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে নিহতের স্ত্রী মমিনা বেগম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। একইদিন দুপুরে জহুরুল ইসলামের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন- সানোয়ার আকন্দ (৫৫), জিহাদ আকন্দ (৩২), এরশাদ আকন্দ (৩৪), জিল্লু আকন্দ (৪০) ও মাসুদ আকন্দ (৪৪)। তারা সবাই নিহতের প্রতিবেশী।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গোবিন্দগঞ্জের চক মাকড়া (মধ্যপাড়া) গ্রামের একটি জমির সীমানা নিয়ে আসামিদের সঙ্গে জহুরুল ইসলামের আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ হলেও আসামিরা তা মেনে নেননি।
এরই একপর্যায়ে বুধবার সকাল ৯টার দিকে আসামিরা মসজিদের পাশে জহুরুল ইসলামের জমিতে ইটের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের উদ্দেশ্যে কোদাল দিয়ে মাটি খুঁড়ছিলেন। খবর পেয়ে জহুরুল সেখানে গিয়ে তার জমিতে প্রাচীর নির্মাণ করে মসজিদে যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ না করার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামিরা তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
এরই মধ্যে সানোয়ার আকন্দের নির্দেশে জিহাদ আকন্দ কোদালের আছাড়ি দিয়ে জহুরুলের বুকে জোরে আঘাত করেন। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে জ্ঞান হারান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. ফরহাদ আলী বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই জহুরুল ইসলামের মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি মাহফুজ আলম বলেন, মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২ থেকে ৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। নিহতের সঙ্গে আসামিদের আগে থেকেই জমিজমা নিয়ে বিরোধ ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। মামলার পর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন