ব্রিসবেনের অ্যালান বর্ডার ফিল্ডে রোববারের সকালটা বাংলাদেশ নারী দলের জন্য একদম অন্ধকারে শুরু হয়েছিল। মাত্র আট রানে তিন উইকেট হারিয়ে মাঠে যেন থমথমে পরিবেশ। ফারজানা হক শূন্য রানে, শারমিন সুলতানা পাঁচ আর শারমিন আক্তার শূন্যে ফিরে গেছেন। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন জেগেছিল, এই ম্যাচ কি আর টিকে থাকবে? কিন্তু ঠিক তখনই ব্যাট হাতে নামেন সোবহানা মোস্তারি। তাঁর ধৈর্য আর নির্ভীক ব্যাটিংয়েই ঘুরে দাঁড়ায় পুরো ইনিংস।
২০১৮ সালে ওয়ানডে অভিষেকের পর থেকে সোবহানার ক্যারিয়ারে সমালোচনার ঝড় কম বয়ে যায়নি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আট বছর কাটানোর পরও প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফরম্যান্স না দেখাতে পারায় তাঁকে অনেক কথা শুনতে হয়েছে। ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়ে তিনি যেন নতুন করে নিজেকে আবিষ্কার করেন। তারপর থেকে বাংলাদেশ নারী দলের ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতার প্রতীক হয়ে উঠেছেন তিনি। আর এবার ওয়ানডেতেও এল সেই অপেক্ষার শতক।
১২৩ বলে ১৫টি চারের সাহায্যে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন সোবহানা। শেষ পর্যন্ত ১৩৪ বলে ১৮ চারে ১১৮ রান করে আউট হন তিনি। মেগান শাটের বলে বোল্ড হয়ে ফিরলেও তাঁর ইনিংসটি হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সেরা। অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে ১৯৫ রানের জুটি গড়েন দুজন। এটি বাংলাদেশ নারী দলের ওয়ানডে ইতিহাসে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ জুটি। নিগার অপরাজিত থাকেন ১১৪ বলে ৭৪ রানে।
এই সেঞ্চুরিতে সোবহানা বাংলাদেশের তৃতীয় নারী ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডেতে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছেছেন। ফারজানা হক ও নিগার সুলতানার পর এ সম্মান এখন তাঁর। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশ নারী দলের ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসও। এর আগে ফারজানা হকের ১০৭ রানই ছিল রেকর্ড। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও এটি প্রথম কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের সেঞ্চুরি। তাতে দলের সংগ্রহ দাঁড়ায় ছয় উইকেটে ২২০ রান, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ নারী দলের সর্বোচ্চ মোট রান।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন