রংপুরে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স (পদমর্যাদাক্রম) না মানা, বিভিন্ন কমিটিতে সংসদ সদস্যদের প্রতিনিধি না রাখা, সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম এবং একটি দলের প্রতি পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছেন রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল। এ সময় জনগণের স্বার্থ উপেক্ষা করা হলে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। জবাবে জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান বলেন, বড় পরিসরের এ ধরনের সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় শব্দচয়নে সবাইকে সতর্ক থাকা উচিত।
রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় রংপুর জেলা প্রশাসনের সম্মেলনকক্ষে এ সভা শুরু হয়। জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানের সভাপতিত্বে সভায় রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী, রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিনসহ মহানগর ও জেলা পুলিশের কর্মকর্তা এবং জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এমপি বেলাল বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। রাষ্ট্র নির্ধারিত পদমর্যাদাক্রম অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের সম্মান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধিদের জনগণের স্বার্থে কথা বলার সুযোগ দিতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আপনারা এমপিদের পাত্তা দিচ্ছেন না। হোয়াই? হোয়াই? কী ভেবেছেন আপনারা? আপনারা আসমান থেকে এসেছেন? মঙ্গলগ্রহ থেকে এসেছেন? উই আর দ্য সনস অব দিস ল্যান্ড সয়েল। আমাদের জনগণ ভোট দিয়েছে। আমাদের পাত্তা দেন না কেন, কেন, কেন?’
জনগণের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করা হলে আন্দোলনে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা ভদ্রলোক। পাশাপাশি আমরা জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত প্রতিনিধি। জনগণের ন্যায্য দাবিতে বাধ্য হয়ে আমাকে আন্দোলনে নামতে হবে। আমার মূল শক্তি হলো জনগণ।’
প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে এমপি বেলাল বলেন, জনগণের দাবি উপেক্ষা করা হলে ভবিষ্যতে আন্দোলন হতে পারে। তিনি কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বাধ্য করবেন না থানায় ঘেরাও করার জন্য। আমাদের বাধ্য করবেন না ডিসি অফিস ঘেরাও করার জন্য।’
এ ছাড়া শ্যামা সুন্দরী খাল সংস্কার, যানজট নিরসন, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার এবং ঢাকা কোচ স্ট্যান্ড শহরের বাইরে স্থানান্তরের বিষয়েও বক্তব্য দেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান বলেন, বড় পরিসরের এ ধরনের সভায় বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সবাইকে শব্দচয়নে সতর্ক থাকতে হবে। সরকারি কর্মকর্তারা যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ পেয়েছেন উল্লেখ করে তিনি পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে কথা বলার ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমাদের সব সদস্যকেই শব্দচয়নের ক্ষেত্রে আরেকটু সতর্কভাবে কথা বলা দরকার। কারণ, এটি একটি জেলার সর্বোচ্চ ফোরাম। এখানে সব সরকারি কর্মকর্তা আছেন। তাঁরা সবাই যোগ্যতার ভিত্তিতে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নিয়োগ পেয়েছেন।’
ডিসি আরও বলেন, ‘কাকে কীভাবে, কতটুকু বলব, সে ক্ষেত্রে আমাদের সবারই সম্মান বজায় রেখে কথা বলার সুযোগ আছে। বিশেষ করে শব্দচয়নের ক্ষেত্রে। আমরা কোন ভাষায়, কী শব্দ বলব, কোন জায়গায় বলব—এসব বিষয়ে আসলে আমাদের সবারই খেয়াল রাখা উচিত।’
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন