পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বীরপাড়া ও গরিনাবাড়ি ইউনিয়নের বজরা পাড়া বাজার থেকে দুই কীটনাশক ব্যবসায়ীর গোডাউন থেকে ৭০ বস্তা সার জব্দ ও ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সোমবার বিকেলে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহন মিনজী পৃথক দুটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এই অর্থদণ্ড করেন।
এসময় সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুন্নবী, উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তা, হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, স্থানীয় মানুষজন সহ সদর থানা পুলিশের দুইটি দল উপস্থিত ছিলেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বীরপাড়া গ্রামে সোমবার বিকেলে কীটনাশক ব্যবসায়ী ও মের্সাস মুন্না ট্রেডার্সের সত্ত্বাধিকারী মো. দেলোয়ার হোসেনের (৪৪) বাড়িতে সার মজুদের খবরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এসময় তার বাসা থেকে টিএসপি ১৫ বস্তা, পটাশ ২২ বস্তা, ড্যাপ ২৪ বস্তা সহ ৬১ বস্তা সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এঘটনায় তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করেন ওই ব্যবসায়ী।
এদিকে, পঞ্চগড় সদর উপজেলার গরিনাবাড়ি ইউনিয়নের বজরাপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন পঞ্চগড় সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহন মিনজী। এসময় জাহিদুল ইমলামের প্রতিষ্ঠান থেকে কাগজবিহীন মজুদ করা ৯ বস্তা সার জব্দ করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার টাকা নগদ প্রদান করেন তিনি।
এছাড়া, বজরা পাড়া বাজারে নয় বস্তা সার উপস্থিত কৃষকদের মাঝে সরকারি দামে প্রকাশ্যে বিক্রি করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহন মিনজী।
পঞ্চগড় সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুন্নবী জানান, দুইটি অভিযানে মোট ৭০ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। হাড়িভাসার জব্দ করা ৬১ বস্তা সার মঙ্গলবার হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি দামে প্রকাশ্যে বিক্রি করে অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে। আর গরিনাবাড়ি বজরা পাড়ার সার তাৎক্ষণিক বিক্রি করা হয়েছে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা এ অভিযান পরিচালনা করি। এসময় দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা করে সার জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত সার সরকারি দামে প্রকাশ্য বিক্রি করে টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে বলা হয়েছে। সার মজুত ও বিপণনে অনিয়ম প্রতিরোধ এবং কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন