আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে উদ্যাপন এবং রংপুর মহানগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আজ সোমবার সকাল ১১টায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার জনাব মুঃ মাহবুবুর রশীদ, পিপিএম-সেবা।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জনাব মাহবুবুর রহমান বেলাল, সংসদ সদস্য, রংপুর-৩; জনাব সামসুজ্জামান সামু, চেয়ারম্যান, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ; জনাব মোঃ সাইফুল ইসলাম, প্রশাসক, জেলা পরিষদ, রংপুর; রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ; বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিবৃন্দ; শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসব কমিটি-২০২৬, রংপুর মহানগরের আহ্বায়ক ডা. নিখিলেন্দ্র শংকর গুহ রায় ও সদস্য সচিব জনাব শ্রী বিপ্লব রায়সহ বিভিন্ন পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সদস্যবৃন্দ।
সভায় আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে মহানগরীর পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, জনসমাগম ব্যবস্থাপনা এবং পূজা উদ্যাপনকালে সম্ভাব্য সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উপস্থিত জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা ও পূজা উদ্যাপন কমিটির প্রতিনিধিরা নিজ নিজ অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণের আলোকে বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং তা মোকাবিলায় করণীয় সম্পর্কে মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন। সভায় উত্থাপিত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে পূজার সার্বিক নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
জনাব মাহবুবুর রহমান বেলাল, সংসদ সদস্য, রংপুর-৩, তাঁর বক্তব্যে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে আরপিএমপি’র মতবিনিময় সভার আয়োজনের জন্য পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, রংপুরের পুলিশ প্রশাসন আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সবশেষে তিনি ব্যক্ত করেন, আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব রংপুর মহানগরীতে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপিত হবে এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা নির্বিঘ্নে তাঁদের ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারবেন।
রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, জনাব সামসুজ্জামান সামু তাঁর বক্তব্যে বলেন সার্বজনীন শারদীয় দুর্গোৎসব সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। বর্তমান সরকারের নির্দেশনা ও নীতিমালার আলোকে এই উৎসবের সার্বিক নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনেরা যাতে কোনো ধরনের বিঘ্ন ছাড়াই অত্যন্ত আনন্দঘন, উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাঁদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে পারেন, সে বিষয়ে পুলিশ বাহিনীকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সংবেদনশীলতা ও সতর্কতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন জনাব মোঃ সাইফুল ইসলাম, প্রশাসক, জেলা পরিষদ, রংপুরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা ও পূজা উদ্যাপন কমিটির প্রতিনিধিরা।
সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ কমিশনার জনাব মুঃ মাহবুবুর রশীদ, পিপিএম-সেবা বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সৌহার্দ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। এ উৎসব শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি পূজা উদ্যাপন কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পূজাকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সবাইকে সতর্ক, সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পূজামণ্ডপকেন্দ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট থানা, পূজা উদ্যাপন কমিটি এবং স্থানীয় প্রতিনিধিদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বজায় রাখতে হবে। পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার, সন্দেহজনক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার বিষয়ে তিনি গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও ধারণকৃত ভিডিও সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন।
পুলিশ কমিশনার জানান, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পূজামণ্ডপে পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন, নিয়মিত টহল বৃদ্ধি এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ছাড়া পূজাকালীন যেকোনো সমস্যা দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও পূজা উদ্যাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে।
সভা শেষে পুলিশ কমিশনার মতবিনিময় সভায় উপস্থিত সবাইকে মূল্যবান মতামত, পরামর্শ ও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে পূজার শুরু থেকে প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও দায়িত্বশীলতা বজায় রেখে উৎসব উদযাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান।
মিডিয়া সেল
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ, রংপুর।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন