আবুধাবি টেস্টে রীতিমত বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন লিটন দাস। একই ম্যাচের দুই ইনিংসে পঞ্চাশোর্ধ্ব রান আর উইকেটকিপার হিসেবে ৯টি ডিসমিসাল; টেস্ট ইতিহাসে প্রথমবার এমন কীর্তি গড়লেন বাংলাদেশের এই তারকা।
এবার তার সামনে হাতছানি দিচ্ছে আরও বড় মাইলফলক। টেস্টে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ডিসমালের একক মালিকানা পেতে লিটনের দরকার আরও তিনটি ডিসমিসাল।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে দেখা মেলে এমনই এক দৃশ্য। যেখানে ইবাদত হোসেনের গতিময় বাউন্সার ব্যাট ছুঁয়ে বল চলে যাচ্ছিল উইকেটের পেছনে। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে লিটনের দুর্দান্ত ক্যাচ।
ইকরাম আলীখিলকে ফিরিয়ে লিটন দাস শুধু একটি উইকেটের পতনই নিশ্চিত করেননি, গড়েছেন বিশ্বরেকর্ডও। আবুধাবি টেস্টের পঞ্চম দিনে এই ক্যাচেই পূর্ণ হয় তার নবম ডিসমিসাল।
এদিন ব্যাট হাতেও দুর্দান্ত ছিলেন লিটন। প্রথম ইনিংসে ৫৩, দ্বিতীয় ইনিংসে খেলেছেন ১০২ রানের ঝলমলে ইনিংস। টেস্ট ইতিহাসে প্রথম উইকেটকিপার হিসেবে এক ম্যাচে দুই ইনিংসেই পঞ্চাশোর্ধ্ব রান এবং কিপিংয়ে ৯টি ডিসমিসালের অনন্য কীর্তি গড়লেন তিনি।
রেকর্ড গড়তে লিটন পেছনে ফেললেন দক্ষিণ আফ্রিকার ডেনিস লিন্ডসেকে। ১৯৬৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ইনিংসে পঞ্চাশোর্ধ্ব রান ও ৮টি ডিসমিসাল ছিল তার কীর্তি।
তবে এখানেই শেষ নয়। টেস্টের এক ম্যাচে উইকেটকিপার হিসেবে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের বিশ্বরেকর্ডও এখন হাতছানি দিচ্ছে লিটনকে। ইংল্যান্ডের জ্যাক রাসেল, দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স এবং ভারতের ঋষভ পন্ত, এই তিনজনেরই ডিসমিসাল ১১টি করে।
আর মাত্র দুই ডিসমিসাল হলেই তাদের পাশে বসবেন লিটন। আর তিনটি ডিসমিসাল করতে পারলেই এককভাবে রেকর্ডের মালিক হবেন বাংলাদেশের এই উইকেটকিপার-ব্যাটার।
টেস্টে এক ম্যাচে ৯টি ডিসমিসালের ঘটনা লিটনের কীর্তিসহ এখন পর্যন্ত দেখা গেছে ৩১ বার। ১০টি ডিসমিসাল হয়েছে পাঁচবার। বাংলাদেশের হয়ে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের রেকর্ডও এখন লিটনের দখলে। এর আগে, ২০০৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৭টি ডিসমিসাল করেছিলেন খালেদ মাসুদ পাইলট।
ব্যাটে রান, গ্লাভসে রেকর্ড— এবার কি বিশ্বরেকর্ডের মুকুটটাও এককভাবে নিজের করে নেবেন লিটন? উত্তর পাওয়া যাবে আবুধাবি টেস্ট শেষ হওয়ার পরই।
এদিকে, লিটনের এই রেকর্ডময় দিনে জয়ের একেবারেই দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে শান্তবাহিনী। এই পথের অন্যতম প্রধান বাঁধা সেঞ্চুরিয়ান সাদিকুল্লাহ আতালকে তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ দল। ৩৩২ বল খেলে ১১১ রান করে আউট হলেও ৫১৪ মিনিট ক্রিজে থেকে রীতিমত টাইগারদের ঘুম হারাম করে দিচ্ছিলেন আফগান এই ওপেনার। তাকে দ্বিতীয় ইনিংসে নিজের প্রথম শিকারে পরিণত করেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম।
৬০ বল খেলে ৪ রান করা ইসমাত আলমের পর বুক চিতিয়ে লড়াই করা আতালকে ফেরাতেই তাই তো রীতিমত জয় উদযাপনে মাতে শান্ত বাহিনী। যদিও কাইস আহমেদ ও ইয়ামিন আহমাদজাই মিলে টাইগারদের চূড়ান্ত উদযাপনে অনেকটা বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন।
এখন দেখার বিষয়, শান্ত বাহিনী কি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আফগানদের শেষ ৩ উইকেট তুলে নিতে পারবে, নাকি জয় ছিনিয়ে নিয়ে ড্র করে মাঠ ছাড়ে আফগানরা। কেননা, ম্যাচের খেলা মাত্র ১১ ওভার বাকি।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন