শরতের নীল আকাশ, মৃদু বাতাস আর সাদা কাশফুলের অপরূপ সৌন্দর্যে বদলে গেছে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের করতোয়া নদীর চরাঞ্চল। নদীর পাড়জুড়ে ফুটে থাকা কাশফুলের শুভ্রতায় সৃষ্টি হয়েছে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। প্রকৃতির এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন বিকেলে এখানে ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সী দর্শনার্থী।
বিকেলে বেলায় দেখা যায়, করতোয়া নদীর বিস্তীর্ণ চরজুড়ে সবুজ ঘাসের ফাঁকে ফাঁকে মাথা উঁচু করে ফুটে আছে সারি সারি সাদা কাশফুল। নদীর মৃদু বাতাসে দুলছে কাশবন। বিকেলের নরম রোদে সাদা কাশফুলের দৃশ্য আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। কেউ কাশবনের মধ্যে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও ধারণ করছেন। আবার কেউ নদীর পাড়ে বসে উপভোগ করছেন প্রকৃতির নীরব সৌন্দর্য। বিশেষ করে জাতের ঘাট এলাকায় বিকেল হলেই দর্শনার্থীদের আনাগোনা বেড়ে যায়। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও স্বজনদের নিয়ে বিভিন্ন বয়সী মানুষ ছুটে আসছেন কাশফুলের সৌন্দর্য দেখতে। ফলে জায়গাটির সৌন্দর্যের কথা ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের এলাকাতে আসতে শুরু করে দর্শনার্থীরা।
ঘুরতে আসা দর্শনার্থী বিরামপুর উপজেলার কাটলা এলাকার বাসিন্দা মোঃ মাহাবুর রহমান বলেন, এখানে কাশফুলের দৃশ্য খুবই সুন্দর পরিবার নিয়ে বিকেলে ঘুরতে এসে বেশ ভালো লাগছে। ছবি তোলার জন্যও জায়গাটি চমৎকার প্রকৃতির এমন সৌন্দর্য সত্যিই মন ভালো করে দেয়।
একই কথা জানান হাকিমপুর উপজেলার হিলির বাসিন্দা মোঃ সোহেল রানা বলেন, শরৎ ঋতুর কথা মনে পড়লেই যেন আমাদের চোখের কোণে ভেসে উঠে ফুটন্ত সাদা কাশফুল। শরতের কাশফুল অগোচরে হৃদয়ে দোলা দিয়ে যায় প্রকৃতি প্রেমীদের মনে। নদীর ধারে, জলের ধারে, উপকূলে এই ফুল স্বমহিমায় বিরাজমান। নদীর ধারে কিংবা খোলা মাঠে মাথা তুলে দাঁড়ানো শুভ্র কাশবন প্রকৃতির এক অনন্য রূপ।
ব্যবসায়ীরা বলেন, করতোয়া নদীর পাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পাশাপাশী হয়ে উঠেছে কর্মস্থান একান আয় দিয়ে চলছে অনেকের পরিবার। দিন যত যাচ্ছে দর্শনার্থীদের ইপস্থিতি বাড়ছে।
করতোয়ার বুকে জেগে ওঠা চর আর তার ওপর ছড়িয়ে থাকা সাদা কাশবন এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের টানছে। বিকেল হলেই দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠছে নদীর পাড়—কাশফুলের শুভ্রতায় যেন সেখানে বসেছে শরতের এক নান্দনিক মেলা।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন