রংপুরে অভিযান চালিয়ে হত্যা, অস্ত্র, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে ২৬টি মামলার আসামি হিসেবে চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী রাজিব হোসেন সুমন ওরফে মেরিল সুমনকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৩ (এসআরবি-১৩)।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে রংপুর মহানগরীর সিও বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবি-১৩-এর উপ-অধিনায়ক মেজর সাইফুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার মেরিল সুমন দীর্ঘদিন ধরে রংপুর অঞ্চলের অপরাধজগতে সক্রিয়। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং বালুমহল নিয়ন্ত্রণ করে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সদর কোম্পানির একটি বিশেষ আভিযানিক দল সিও বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় মেরিল সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি রংপুর মহানগরীর শালবন শাহীপাড়া এলাকার আবু হানিফের ছেলে।
মেজর সাইফুল ইসলাম বলেন, মেরিল সুমনের বিরুদ্ধে রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন থানায় মোট ২৬টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে হত্যা মামলা একটি, হত্যা চেষ্টা ও মারামারির মামলা আটটি, চাঁদাবাজির মামলা চারটি, ডাকাতির প্রস্তুতির মামলা তিনটি, অস্ত্র মামলা ছয়টি, অপহরণ মামলা একটি, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি, মাদক মামলা একটি এবং দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা রয়েছে।
১৮ অক্টোবর রোববার রাতে রংপুর মহানগরীর কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা একটি অস্ত্র মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কুনিও হোসি হত্যা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ
এসআরবি-১৩-এর জরুরি সংবাদ সম্মেলনে শীর্ষ সন্ত্রাসী মেরিল সুমনের অতীত অপরাধ-সংশ্লিষ্টতার বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৫ সালে জাপানি নাগরিক কুনিও হোসি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে অস্ত্রসহ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল তৎকালীন র্যাব-৫।
২০১৯ সালে রংপুর মহানগরীর তাজহাট এলাকা থেকে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে বিদেশি পিস্তল, রিভলবার, গুলি, শুটার গান ও চাইনিজ কুড়ালসহ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল তৎকালীন র্যাব-১৩। ২০২৩ সালে নগরীর ইস্টার্ন হাউজিং এলাকা থেকে পিস্তল ও ইয়াবাসহ তাকে গ্রেপ্তার করে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ।
এ ছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের ওপর হামলা, নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর পরিকল্পনার অভিযোগে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ও ঠাকুরগাঁও জেলা গোয়েন্দা শাখার যৌথ অভিযানে ঠাকুরগাঁও থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
এসআরবি-১৩-এর দাবি, মেরিল সুমনের বিরুদ্ধে নিজস্ব বাহিনী গঠন করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং চাঁদাবাজি ও বালুমহল নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে এসআরবি-১৩-এর কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। তার অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান এবং সহযোগীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় দেওয়া হয়েছে। রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে এসআরবি-১৩।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন