পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের মালিপাড়া এলাকার বাসিন্দা জোবেদা খাতুন। বয়স সত্তর পেরিয়েছে। স্বামী ইউসুফ আলী মারা গেছেন ৭/৮ বছর আগে। তিন মেয়ে ও দুই ছেলে সবাই যে যার মতো সংসার গুছিয়েছে। বৃদ্ধ মায়ের জায়গা হয় নি কারো বাড়িতে। বড় ছেলে জোবাইদুল ইসলাম থাকেন ঢাকায়। প্রতি মাসে মাকে ১ হাজার করে টাকা পাঠান। সেই টাকা দিয়ে অর্ধাহারে অনাহারে কাটে জোবেদার জীবন। ছোট্ট ভাঙাচোরা ঘর। টিনের চালা দিয়ে পড়ে পানি। ঘরে বিদ্যুতও নেই। তার মধ্যেই জীবন সংগ্রাম করে চলেন জোবেদা। ছেলে যে টাকা পাঠায় তা দিয়ে পুরো মাসের খাবার জোগান হয় না। তার মধ্যে ওষুধ কিনতেও খরচ হয়। সব মিলিয়ে জোবেদা টানাপোড়েনের জীবন। তার দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ান পঞ্চগড়ের তরুণ সমাজ কর্মী এড. আহসান হাবিব সরকার। দুই মাসের খাবার নিয়ে হাজির হন জোবেদার দুয়ারে। তার হাতে তুলে দেন চাল, ডাল, তেল, আটা, আলু, পেঁয়াজ, লবণের প্যাকেট। এই উপহার সামগ্রী পেয়ে দারুন খুশি জোবেদা। অনায়াসে দুই মাসের খাবারের জোগান হওয়ায় চোখে তার আনন্দাশ্রু।
জোবেদা বেগম বলেন, আমার স্বামী ইউপি সদস্য ছিলো। আজ আমার করুন দশা। এক ছেলে মাসে ১ হাজার করে টাকা দেয় বলে কোন মতে খেতে পাই। এই জিনিসপত্র পেয়ে আমার দারুন উপকার হলো। দুই মাস সুন্দরভাবে খেতে পারবো। আমি এই যুবকের জন্য প্রাণ খুলে দোয়া করবো।
এড. আহসান হাবিব সরকার বলেন, আসলে আমাদের সমাজের অনেক মানুষ খুব অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। আমরা হয়তো তাদের খবরও রাখি না। আমরা যদি সবাই একটু একটু করে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াই তাহলে তাদের জীবনের কষ্টরা হালকা হয়ে যাবে। এই ধারণা থেকেই আমি সামর্থ অনুযায়ী অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন