প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে জেলায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসব। এ উপলক্ষে আজ সকালে মহা-দশমীর পূজা-অর্চনা শেষে মণ্ডপে মণ্ডপে সিঁদুর খেলায় ভক্তরা ধরা থেকে বিদায় জানায় দুর্গতি নাশিনী দেবী দূর্গাকে।
জেলায় এবার ৮৬৮টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুর্গোৎসব। উৎসব ঘিরে গ্রহণ করা হয়েছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। শান্তিপূর্ণ পূজা উদযাপনে পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছাড়াও সাদা পোশাকে ছিল জোরালো গোয়েন্দা নজরদারী। পাশপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানায় জেলা পুলিশ।
নীলফামারী কেন্দ্রীয় কালিবাড়ি মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক তাপস কুমার সাহা বাসস’কে বলেন, আজ বুধবার সকালে পূজা মণ্ডপে মহা-দশমীর অঞ্জলি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সকাল নয়টার মধ্যে বিসর্জনের মধ্যদিয়ে ধরা থেকে বিদায় জানানো হয় দুর্গতি নাশিনী মা দুর্গা দেবীকে। বিসর্জনের পূজা শেষে মায়ের বিদায় উপলক্ষে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন ভক্তরা।
একই মন্দির কমিটির সভাপতি অক্ষয় কুমার রায় বলেন, প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তার কারণে ভক্তরা এবার উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন করছেন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভক্তরা বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন। উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিদিন মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্তদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
তিনি জানান, আজ সন্ধ্যার আগে অনুষ্ঠিত হবে প্রতিমা বিসর্জন। এজন্য কেন্দ্রীয় কালিবাড়ি মন্দিরে বসবে ভক্তদের মিলন মেলা। সেখানে জেলা শহরের মিলন পল্লী, বড়বাজার, শিব মন্দির, বাড়াইপাড়া, সওদাগর পাড়া পূজা মণ্ডপের ভক্তরা প্রতিমা নিয়ে বিসর্জনের জন্য মিলিত হবেন।
এদিকে জেলা শহরের শিবমন্দির দুর্গোৎসব কমিটির আহ্বায়ক পরিতোষ রায় বলেন, ‘প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে এবারে ভক্তরা নির্বিঘ্নে উৎসব পালন করছেন। পূজার ষষ্ঠী থেকে আজ দশমী পর্যন্ত বিভিন্ন মণ্ডপে ভক্ত এবং দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যণীয়।
বুধবার সকালে মহা-দশমীর পূজায় জেলা শহরের বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে অন্যান্য দিনের ন্যায় ভক্তদের উৎসবমুখর উপস্থিতি। পূজা-অর্চণার বিভিন্ন সামগ্রীর পাশিপাশি ভক্তরা নিয়ে এসছিলেন দুর্গা দেবীকে ধরা থেকে বিদায়ের পূজা শেষে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন ভক্তরা।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. মনোয়ারুল ইসলাম বাসস’কে জানান, জেলার ৬ উপজেলায় এবার ৮৬৮টি মণ্ডপে দুর্গোৎসব পালিত হয়েছে। সরকারিভাবে প্রতিটি মণ্ডপে ৬শ’ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ওই ৮৬৮টি মণ্ডপের মধ্যে রয়েছে নীলফামারী সদরে ২৮৫টি, জলঢাকায় ১৮৫টি, কিশোরগঞ্জে ১২৭টি, ডোমারে ১০৫টি, সৈয়দপুরে ৮৮টি এবং ডিমলা উপজেলায় ৭৮টি।
জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়ন যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল পারভেজ জানান, শারদীয় দুর্গোৎসরে আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল ও অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাররিন ইসলাম চৌধুরী তুহিনের সহযোগিতায় এ জেলায় দুঃস্থ মানুষের মধ্যে নতুন বস্ত্র বিতরণ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণে উৎসবমুখর ও সম্প্রীতিপূর্ণ পরিবেশে এবারের উৎসব পালিত হয়েছে’।
স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৩ (এসআরবি) রংপুরের এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মনজুর করিম বাসস’কে জানান, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যক এসআরবি সদস্য মোতায়েন ছিল।
সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম চলবে আগামীকাল ২২ অক্টোবর পর্যন্ত। এ ছাড়া বিকেলে প্রতিমা বিসর্জনে নেয়া হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
নীলফামারী পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁন বাসস’কে বলেন, জেলার ৮৬৮টি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণ পূজা উদযাপনে নিছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। প্রতিটি মণ্ডপে পর্যপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের পাশপাশি আমরা নিজেরাও বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শন করেছি।
জেলায় সকল পূজা মণ্ডপে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা সমাপ্ত হয়েছে। বিকেলে প্রতিমা বিসর্জনের সময়টুকুও শান্তিপূর্ণভাবে কেটে যাবে। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণেই বিভিন্ন মণ্ডপে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ সকল ভক্তদের উপচেপড়া ভিড় ছিল।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন