ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী উপজেলা) আসনের উপনির্বাচনে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোট গ্রহণ চলবে।নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে আভাস মিলেছে। তবে জয়-পরাজয়ের নিয়ামক হতে পারে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোট।
জানা গেছে,চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তৎকালীন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করেছে।শূন্য হওয়া ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী উপজেলা) আসনের উপনির্বাচনে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোট গ্রহণ চলবে
আসনটিতে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন (ধানের শীষ) ও ১১-দলীয় জোট-সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের (দাঁড়িপাল্লা) মধ্যে হবে বলে আলোচনা রয়েছে।বিএনপির প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন অতীতে জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে থাকা ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
আসনটিতে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৭ হাজার ৪৭৫ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার চারজন।তাঁদের মধ্যে ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি হিন্দু ভোটার রয়েছেন। শহরের চায়ের দোকান থেকে পাড়া-মহল্লায় ভোটের সম্ভাব্য ফল নিয়ে চলছে আলোচনা। বিশেষ করে হিন্দু-অধ্যুষিত এলাকাগুলোর ভোট কোন প্রার্থীর দিকে যায়, তা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
সদরের ধন্দগাঁও ও পূর্ব বেগুনবাড়ি বিডি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকার মতো হিন্দু-অধ্যুষিত কেন্দ্রগুলোতে আগের নির্বাচনে বিএনপির উল্লেখযোগ্য ভোট ছিল বলে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে। এবার সেই সমর্থন ধরে রাখার চেষ্টা করছে দলটি। অন্যদিকে, এসব এলাকায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে প্রচার চালিয়েছে জামায়াতে ইসলামীও। দুই প্রার্থীর পক্ষ থেকেই হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বাবা এবং ভাইয়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করেই সংসদে যেতে চান মির্জা ফয়সাল আমিন
বৃটিশ আমল থেকেই “রাজনৈতিক পরিবার” হিসেবে ঠাকুরগাঁও জেলার মানুষের কাছে অত্যন্ত পরিচিত “মির্জা পরিবার”। ঠাকুরগাঁও পৌরসভায় দীর্ঘ ১৭ বছর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মির্জা ফয়সাল আমিনের বাবা মির্জা রুহুল আমিন। তিনি পাকিস্তান এবং স্বাধীন বাংলাদেশে
একাধিক বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরশাদের আমলে তিনি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
মির্জা রুহুল আমিনের জীবদ্দশায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারি চাকরি ছেড়ে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়েই ১৯৮৮ সালে সক্রিয় রাজনীতিতে পদার্পণ করেন। বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মেয়র, এমপি এবং মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন শেষে এখন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মির্জা ফয়সাল আমিন ঠাকুরগাঁও পৌরসভার সাবেক মেয়র। আওয়ামী লীগের আমলেই তিনি ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন।দলীয় মনোনয়ন নিয়ে তিনিও পৌর ভবন থেকে বাবা এবং বড়ভাইয়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করেই সংসদে যেতে চান। মির্জা ফয়সাল আমিন সংসদ ভবনে যাওয়ার ভাগ্য নির্ধারণ হবে আগামীকালের নির্বাচনে।
বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন তাঁর বড় ভাই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সময়কার উন্নয়ন উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, হাসপাতাল সম্প্রসারণ, বন্ধ বিমানবন্দর চালু এবং ইপিজেড স্থাপনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চান তিনি।
জীবন্ত শহীদ খ্যাত শিবিরের সাবেক সভাপতি দেলোয়ার হোসেন যেভাবে এমপি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে :
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কে বলা হয় শিবিরের অপ্রতিরোধ্য ঘাঁটি। ছাত্রশিবিরের চরম দুঃসময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে শিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান দেলোয়ার হোসেন।তিনি আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায় প্রতিবাদে এবং বিএনপি- জামায়াত জোটের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনে সাহসী ভূমিকা পালন করার কারণে দেলোয়ার হোসেন কে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হওয়ায় “জীবন্ত শহীদ” হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন । তিনি দীর্ঘ ৫ বছরের বেশি সময় ধরে রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে বন্দী ছিলেন। তার এই দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগের কারণে তিনি সারাদেশেই পরিণত তরুণদের আইকন হিসেবে।দেলাওয়ার হোসেনের ছোটভাই আলমগীর হোসেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন বলে রাজনৈতিক পরিবার হিসেবে পরিচিতি রয়েছে তাদের।
জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন নির্বাচিত হলে উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন।সরকারের উন্নয়ন বরাদ্দের পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।
চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তৎকালীন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।ওই নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে ভোট করেছিলেন দেলাওয়ার হোসেন। তিনি প্রায় ৯৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে।
জেলা নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন— বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ডা. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)।
এই আসনের নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্র ১৮৫টি এবং ভোটকক্ষ ৯৮৯টি। ভোটগ্রহণে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং কর্মকর্তা মিলিয়ে মোট ৩ হাজার ১৫২ জন দায়িত্ব পালন করবেন।
আজ ২৮ অক্টোবর(২০২৬) বুধবার রাতে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সাল আমিন এবং জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করে একে অপরের বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ করেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন