২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নীলফামারীর ১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন পরীক্ষার্থীও পাস করতে পারেননি। এর মধ্যে ১২টি কলেজ ও দুটি আলিম মাদ্রাসা রয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার সদর উপজেলার চারটি, ডিমলার তিনটি, ডোমারের তিনটি, কিশোরগঞ্জের দুটি এবং সৈয়দপুরের দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাসের হার শূন্য।
জেলা শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নীলফামারী সদরের আদর্শ কলেজের ৪০ জন, পঞ্চপুকুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৬ জন, তরণীবাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২ জন এবং লক্ষ্মীচাপ সৃজনশীল কলেজের একজন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেননি।
একইভাবে কিশোরগঞ্জের ভেড়ভেড়ি মাঝাপাড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৫১ জন এবং নয়ানখান স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৩ জন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন।
ডিমলা উপজেলার জেলা পরিষদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের একজন, গয়াখড়িবাড়ি উইমেনস কলেজের একজন এবং আদাবাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২ জন পরীক্ষার্থীর কেউ পাস করেননি।
ডোমার উপজেলার জামিরবাড়ি মহিলা মহাবিদ্যালয়ের ৫ জন, বাগডোকরা নিমুজখানা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৩ জন এবং পাঙ্গা চৌপথী আব্দুল মজিদ আলিম মাদ্রাসার ১৫ জন পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল করেছেন।
এ ছাড়া সৈয়দপুর উপজেলার ছমির উদ্দিন আদর্শ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২ জন এবং পোড়াহাট ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার ৭ জন পরীক্ষার্থীর কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
১৪ প্রতিষ্ঠানে শতভাগ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। কয়েকজন অভিভাবকের অভিযোগ, নিয়মিত পাঠদান না হওয়া, শিক্ষার্থীদের প্রতি পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার কারণেই এমন বিপর্যয়কর ফলাফল হয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। প্রতিষ্ঠানগুলোতে গিয়েও বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে নীলফামারী আদর্শ কলেজের প্রভাষক শরিউল ইসলাম শাহ্ বলেন, ‘আমাদের কলেজ ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় ২৬ বছর ধরে আমরা বিনা বেতনে শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছি। এতে শিক্ষকরাও হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। তারপরও শত প্রতিকূলতার মধ্যে শিক্ষার্থীদের বাড়ি থেকে ডেকে এনে ক্লাস নিয়েছি। এরপরও তারা কেন পাস করতে পারল না, সেটিই ভাবার বিষয়। এর আগে কখনো এমন হয়নি।’
এদিকে ১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমন ফলাফলের কারণ অনুসন্ধানে উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মো. হুমায়ূন কবির বলেন, ‘১৪টি প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীরা কেন পাস করতে পারল না, সে বিষয়ে জানতে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের ডাকা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে জবাব নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হবে। এরপর মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত দেবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর এমন ফলাফলের পেছনে প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবকরা।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন