পড়াশোনার কোনো বয়স হয় না এই প্রবাদটিকে আবারও সত্য প্রমাণ করে দেখালেন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার শেফালী বেগম। শৈশবে পিতাকে হারিয়ে চরম অভাব-অনটন এবং অষ্টম শ্রেণিতে পড়াকালীন বাল্যবিয়ের মতো সামাজিক ও পারিবারিক শত প্রতিকূলতা পেরিয়ে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় তিনি জিপিএ-৪.২১ অর্জনের মাধ্যমে তাক লাগানোর মতো সাফল্য অর্জন করেছেন নীলফামারীর শেফালী বেগম।
বাল্যকালে সংসারের যাতাকল, স্বামী ও সন্তানদের গৃহস্থালি দায়িত্বের শত ব্যস্ততার মাঝেও ২০২০ সালে দীর্ঘ বিরতি ভেঙে আবারও বইখাতা তুলে নেন হাতে। হার না মানা মানসিকতা নিয়ে তিনি শুরু করেন আবার
পড়াশোনা।
এই অসাধ্য সাধনে তাঁর স্বামী মোকছেদুল আলম এবং সন্তানদের ভালোবাসা ও উৎসাহ সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। রাতের পর রাত জেগে পপড়াশোনা ও তাঁর কঠোর পরিশ্রমই আজ এই আলোর দেখা দিয়েছে তার জীবনে।
এর আগে ২০২৩ সালে এসএসসি পরীক্ষায় সাফল্যের পর এবার এইচএসসিতেও এই কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের পর শেফালীর বুকজুড়ে এখন তৈরি হয়েছে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুদূরপ্রসারী স্বপ্ন ও আশা। পা রাখতে চান বিশ্ববিদ্যালয়ের বারান্দায়।
বয়স যে কেবলই একটি সংখ্যা—শেফালী বেগমের এই চোখ জুড়ানো সাফল্য তা প্রমাণ করার পাশাপাশি পুরো সমাজ ও এলাকাবাসীর মনে ছড়িয়ে দিয়েছে এক অনাবিল অনুপ্রেরণা ও আনন্দের জোয়ার।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন