দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৯৫৩ জন পরীক্ষার্থী। তবে ৪৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। বিপরীতে শতভাগ পাস করেছে মাত্র ৬টি প্রতিষ্ঠান।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষার ফলাফলের এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরের তুলনায় এবার বোর্ডের পাসের হার, জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা এবং শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে। অন্যদিকে বেড়েছে কোনো পরীক্ষার্থী পাস না করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা।
গত বছর দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার ছিল ৫৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশে। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৬ হাজার ২৬০ জন। এবার সেই সংখ্যা কমে হয়েছে ২ হাজার ৯৫৩ জন।
এ ছাড়া গত বছর বোর্ডের ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করলেও এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬টিতে। অন্যদিকে গত বছর ৪৩টি প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এবার সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪৯টি।
চলতি বছর দিনাজপুর বোর্ডে মোট ২,৯৫৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। এর মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ১,৩৮৩ জন এবং ছাত্রী সংখ্যা ১,৫৭০ জন। ২০২৩ সালে যেখানে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৬,৪২৯ জন এবং ২০২৪ সালে ১৪,২৯৫ জন ছিল, সেই তুলনায় এবার জিপিএ-৫ এর সংখ্যায় বড় ধস নেমেছে।
এবারের পরীক্ষায় এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে ৩২,৪৫৯ জন শিক্ষার্থী (২৯.০৪%) এবং দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে ১৪,২৩৬ জন শিক্ষার্থী (১২.৭৩%)। এছাড়া পরীক্ষা চলাকালীন শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ৪২ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
কলেজভিত্তিক ফলাফল,শতভাগ পাস করা কলেজের সংখ্যা এবার আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে।
১০০% পাসকৃত কলেজ: এ বছর মাত্র ৬টি কলেজ থেকে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে, যা গত বছর (২০২৫ সাল) ছিল ১১টি এবং ২০২০ সালে ছিল সর্বোচ্চ ৬৫৭টি।
এছাড়া, ১০% এর কম পাস করা কলেজের সংখ্যা এবার ৪৩টি এবং ৫০% থেকে ৯৯% পাস করা কলেজের সংখ্যা ১০৬টি।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবিদদের মতে, নিয়মিত ক্লাসের ঘাটতি এবং পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতির পরিবর্তনের কারণে এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ এর সংখ্যায় এই বড় পতন লক্ষ্য করা গেছে। ফলাফল বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও যত্নবান হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন বোর্ড কর্তৃপক্ষ।
সামগ্রিক ফলাফলে গত বছরের তুলনায় দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষার্থীদের ফলাফলে উল্লেখযোগ্য অবনতি দেখা গেছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন